উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় শিক্ষার্থীদের সামনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলোর একটি হলো বিষয় নির্বাচন। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকেরা সামাজিক প্রচলিত ধারণা বা অন্যের মতামতের ওপর নির্ভর করে বিষয় নির্বাচন করেন। শিক্ষাবিদদের মতে, এই প্রবণতা অনেক সময় শিক্ষার্থীদের সঠিক পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের অভিজ্ঞতা বলছে, বিষয় নির্বাচন করার সময় প্রথমেই নিজের আগ্রহকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। অনেক সময় সমাজে এমন ধারণা প্রচলিত থাকে যে বিজ্ঞান বিভাগে পড়া মানেই ডাক্তার বা প্রকৌশলী হতে হবে। কিন্তু বাস্তবে বিজ্ঞানের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত যৌক্তিক চিন্তাশক্তি ও বিশ্লেষণী ক্ষমতা গড়ে তোলা।
অনেক শিক্ষার্থী বিজ্ঞানে পড়লেও তাদের আগ্রহ থাকতে পারে মানুষের মনস্তত্ত্ব, আইন বা অন্য কোনো বিষয়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীরা এসব ক্ষেত্রেও সফল হতে পারেন, কারণ তাদের বিশ্লেষণী দক্ষতা অনেক ক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা দেয়।
একইভাবে ব্যবসায় শিক্ষা বা মানবিক বিভাগের ক্ষেত্রেও অনেক ভ্রান্ত ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করে ব্যবসায় শিক্ষায় পড়লে কেবল বিবিএ বা হিসাববিজ্ঞানই পড়তে হবে। কিন্তু বাস্তবে অর্থনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বা সমাজবিজ্ঞানের মতো বিষয়গুলোও বর্তমান বিশ্বে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয় নির্বাচন করার আগে শিক্ষার্থীদের নিজেদের কাছে কয়েকটি প্রশ্ন করা উচিত। যেমন কোন বিষয় পড়তে গেলে তারা আগ্রহ অনুভব করে, ভবিষ্যতে নিজেদের কোন পেশায় দেখতে চায় এবং তাদের ব্যক্তিগত দক্ষতা কোন বিষয়ের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি মানানসই।
অনেক সময় শিক্ষার্থীরা বন্ধুদের দেখে বা জনপ্রিয়তার কারণে বিষয় নির্বাচন করে থাকে, যা পরবর্তীতে সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সামাজিক চাপ বা ট্রেন্ডের পরিবর্তে নিজের আগ্রহ ও সক্ষমতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
অভিভাবকদের প্রতিও বিশেষজ্ঞরা আহ্বান জানিয়েছেন, সন্তানদের ওপর নির্দিষ্ট পেশা চাপিয়ে না দিয়ে তাদের আগ্রহকে গুরুত্ব দিতে। কারণ পছন্দের বিষয়ে পড়াশোনা করলে একজন শিক্ষার্থী নিজের সর্বোচ্চ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে পারে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা কেবল একটি চাকরি পাওয়ার পথ নয়, বরং নিজের সক্ষমতা আবিষ্কার করার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। তাই সঠিকভাবে চিন্তা করে আগ্রহ, দক্ষতা এবং ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে সমন্বয় করেই বিষয় নির্বাচন করা উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।
সিএ/এমআর


