আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রা মানুষের দৈনন্দিন অভ্যাসে বড় পরিবর্তন এনেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান সময়ের কিছু অভ্যাস অজান্তেই মানুষের মস্তিষ্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার, অনিয়মিত ঘুম, তথ্যের অতিরিক্ত চাপ ও দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপের মতো বিষয়গুলো ধীরে ধীরে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে মস্তিষ্কের ওপর এসব ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমানো সম্ভব। সচেতনভাবে কয়েকটি বিষয় এড়িয়ে চললে মনোযোগ, স্মৃতিশক্তি এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয়।
ডিজিটাল স্টিমুলেশন বর্তমানে মানুষের মনোযোগের অন্যতম বড় শত্রু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মোবাইল ফোনে বারবার নোটিফিকেশন আসা বা ভাইব্রেশন অনুভূত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মস্তিষ্ক এক কাজ থেকে আরেক কাজে মনোযোগ সরিয়ে নেয়। গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো কাজের মাঝখানে একবার বাধা তৈরি হলে আগের মতো গভীর মনোযোগে ফিরতে প্রায় ২০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এভাবে বারবার মনোযোগ বদলাতে থাকলে মস্তিষ্কের গ্লুকোজের মজুত দ্রুত কমে যায় এবং দিনের মাঝামাঝি সময়েই ক্লান্তি অনুভূত হয়।
ঘুমের মান কমে যাওয়াও মস্তিষ্কের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে। পর্যাপ্ত সময় ঘুমালেও গভীর ঘুম না হলে মস্তিষ্ক তার স্বাভাবিক পরিষ্কার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে না। গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্কের গ্লিম্ফ্যাটিক সিস্টেম বিপাকীয় বর্জ্য পরিষ্কার করে। কিন্তু ঘুমানোর আগে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনে তাকিয়ে থাকলে নীল আলো সেই প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। ফলে বিশেষজ্ঞরা ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের গ্যাজেট ব্যবহার বন্ধ রাখার পরামর্শ দেন।
তথ্যের অতিরিক্ত চাপ বা ইনফরমেশন ওভারলোডও মানুষের মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। বলা হয়, বর্তমান সময়ে একজন মানুষ এক দিনে যত তথ্য গ্রহণ করেন, তা অতীতের কয়েক শতাব্দী আগে একজন মানুষ সারা জীবনে যত তথ্য পেতেন তার চেয়েও বেশি। সংবাদ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন মতামতের ভিড়ে মস্তিষ্কের তথ্য বাছাই করার ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতাও কমে যেতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ মস্তিষ্কের স্মৃতি নিয়ন্ত্রণকারী অংশের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অতিরিক্ত কাজের চাপ বা দুশ্চিন্তার কারণে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বাড়লে তা মেমরি সেন্টারের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে। তাই বিশেষজ্ঞরা নিয়মিত শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা ধ্যানের মতো সহজ পদ্ধতি অনুশীলনের পরামর্শ দেন।
শারীরিক কার্যকলাপের অভাবও মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীরে স্ট্রেস হরমোন জমে থাকে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। নিয়মিত ব্যায়াম বা হাঁটা শরীরে ব্রেন ডেরাইভড নিউরোট্রফিক ফ্যাক্টর বা বিডিএনএফ উৎপাদন বাড়ায়, যা স্নায়ুকোষের বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তাই প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটার অভ্যাসও মস্তিষ্কের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএ/এমআর


