ঈদ সামনে এলেই শপিংমল ও মার্কেটগুলোতে নতুন পোশাক, রঙিন ডিজাইন এবং বিভিন্ন অফারের সমাহার দেখা যায়। এমন পরিবেশে অনেক সময় পরিকল্পনা অনুযায়ী কেনাকাটা করা কঠিন হয়ে পড়ে। বাড়ি ফিরে দেখা যায় বাজেট ছাড়িয়ে গেছে, অথচ প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস এখনও কেনা হয়নি। এই সমস্যার সহজ সমাধান হতে পারে আগে থেকে একটি শপিং লিস্ট তৈরি করা।
ভোক্তা আচরণ নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, উৎসবের সময় আবেগপ্রবণ বা হঠাৎ সিদ্ধান্তে কেনাকাটার প্রবণতা বেড়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক আকর্ষণ বা অফারের কারণে মানুষ পরিকল্পনার বাইরে গিয়ে পণ্য কিনে ফেলেন। আগে থেকেই তালিকা তৈরি থাকলে অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানো সহজ হয় এবং কেনাকাটার অভিজ্ঞতাও সন্তোষজনক হয়।
ঈদের কেনাকাটার সময় পোশাকের পাশাপাশি জুতা, ব্যাগ, গয়না কিংবা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীরও চাহিদা থাকে। তাই কোন খাতে কত টাকা ব্যয় করা হবে তা আগে থেকে নির্ধারণ করলে বাজেট নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। তালিকায় অগ্রাধিকার নির্ধারণ করলে প্রলোভনে পড়ে অতিরিক্ত খরচের ঝুঁকিও কমে।
অনেক সময় মূল পোশাক কেনা হলেও প্রয়োজনীয় অ্যাকসেসরিজ বা টেইলরিংয়ের বিষয়টি ভুলে যাওয়া হয়। শপিং লিস্টে এসব বিষয় আলাদা করে উল্লেখ থাকলে কোনো প্রয়োজনীয় জিনিস বাদ পড়ার সম্ভাবনা কমে যায়।
ঈদের আগে মার্কেটগুলোতে সাধারণ সময়ের তুলনায় বেশি ভিড় থাকে। তাই কী কিনবেন তা আগে থেকে নির্দিষ্ট থাকলে অযথা দোকান ঘোরার প্রয়োজন কম হয়। এতে সময় ও শক্তি দুটিই সাশ্রয় হয়, বিশেষ করে রোজার সময় ক্লান্তিও কম লাগে।
এ ছাড়া আগে থেকে রঙ বা পোশাকের সঙ্গে মানানসই অন্যান্য সামগ্রীর বিষয়টি ভেবে রাখলে কেনাকাটা আরও সহজ হয়। অনেকেই মোবাইলে আগের পোশাকের ছবি রেখে তালিকার সঙ্গে মিলিয়ে কেনাকাটা করেন, ফলে অপ্রয়োজনীয় পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পরিকল্পিত কেনাকাটা শুধু আর্থিক সাশ্রয়ই নিশ্চিত করে না, বরং মানসিক স্বস্তিও বাড়ায়। তাই ঈদের আনন্দকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যময় করতে সচেতনভাবে শপিং লিস্ট তৈরি করা কার্যকর একটি অভ্যাস হতে পারে।
সিএ/এমআর


