ঘুমের ভেতর স্বপ্ন দেখা মানুষের স্বাভাবিক অভিজ্ঞতা। অনেক সময় আমরা স্বপ্ন মনে রাখতে পারি, আবার অনেক সময় জেগে ওঠার পর তা হারিয়ে যায়। স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা গবেষণা হয়েছে, যেখানে উঠে এসেছে বেশ কিছু চমকপ্রদ তথ্য।
অনেকে মনে করেন, স্বপ্ন নাকি সাদা-কালো হয়। তবে গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ সাদা-কালো স্বপ্ন দেখেন। অধিকাংশ মানুষের স্বপ্নই রঙিন।
একজন মানুষ সাধারণত প্রতি রাতে একাধিক স্বপ্ন দেখেন। গড়ে পাঁচ থেকে সাতটি স্বপ্ন দেখা অস্বাভাবিক নয়, কখনো কখনো এর সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। তবে অধিকাংশ স্বপ্নই জেগে ওঠার পর মনে থাকে না। বিশেষ করে ভোরের দিকে দেখা স্বপ্ন অনেক সময় তুলনামূলক স্পষ্টভাবে মনে থাকে।
তিন থেকে আট বছর বয়সী শিশুদের স্বপ্নে দুঃস্বপ্নের হার বেশি বলে গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। শিশুদের কল্পনাশক্তি ও মানসিক বিকাশের পর্যায়ভেদে এ ধরনের স্বপ্ন দেখা স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়।
অন্ধ ব্যক্তিরাও স্বপ্ন দেখেন। যারা জন্মের পর দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তাদের স্বপ্নে দৃশ্যমান উপাদান থাকতে পারে। তবে জন্মান্ধ ব্যক্তিদের স্বপ্নে শব্দ, স্পর্শ, গন্ধ বা অনুভূতির অভিজ্ঞতা বেশি প্রাধান্য পায়।
স্বপ্নে আমরা অনেক সময় এমন দৃশ্য দেখি, যা বাস্তবে সরাসরি মনে করতে পারি না। মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, অবচেতন মনে জমে থাকা নানা অভিজ্ঞতা ও স্মৃতির প্রতিফলনই স্বপ্নে ভেসে ওঠে। নারী ও পুরুষের স্বপ্নের ধরনেও পার্থক্য দেখা যায় বলে বিভিন্ন গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শুধু মানুষই নয়, প্রাণীরাও স্বপ্ন দেখে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুমের নির্দিষ্ট পর্যায়ে প্রাণীদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম মানুষের মতোই সক্রিয় হয়। যেমন, একটি কুকুর ঘুমের মধ্যে থাবা নাড়ালে ধারণা করা হয়, সে স্বপ্নে দৌড়াচ্ছে।
সিএ/এমআর


