এক ব্যস্ত ও জনাকীর্ণ পৃথিবীতে বসবাস করেও মানুষ ক্রমেই নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ছে। চারপাশে মানুষের ভিড়, শব্দ আর যোগাযোগের অসংখ্য মাধ্যম থাকা সত্ত্বেও অনেকেই ভেতরে ভেতরে একাকিত্বে ভুগছেন। প্রেমের সম্পর্ক, বন্ধুত্ব কিংবা দাম্পত্য জীবন—সবকিছুর মধ্যেও এই নিঃসঙ্গতার অনুভূতি কাজ করছে।
গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বলছে, নিঃসঙ্গতা আপেক্ষিক অনুভূতি। কারো কাছে এটি ভিড়ের মাঝেও নিজেকে আগন্তুক মনে করার নাম, আবার কারো কাছে এটি সম্পর্কের ভেতরের শূন্যতা। প্রিয়জন কাছে থাকলেও যদি অনুভূতির আদান-প্রদান না হয়, তাহলে একাকিত্ব তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি নিঃসঙ্গতা মানসিকভাবে অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক। অনেক সময় মানুষই নিঃসঙ্গতার সমাধান নয়, বরং সমস্যার অংশ হয়ে দাঁড়ায়। অতিরিক্ত প্রত্যাশা, অভিমান ও অভিযোগ সম্পর্ককে দুর্বল করে তোলে, যা একাকিত্বের জন্ম দেয়।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ঘনবসতিপূর্ণ ও আধুনিক শহরগুলোতে নিঃসঙ্গতার অনুভূতি তুলনামূলক বেশি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের জীবনঘনিষ্ঠ মুহূর্ত দেখার সুযোগ বাড়লেও এতে অনেক সময় তুলনা, হীনমন্যতা ও দূরত্ব আরও বেড়ে যায়।
বিশ্বজুড়ে ‘নিঃসঙ্গতার মহামারি’ নিয়ে আলোচনা চলছে। তরুণদের একটি বড় অংশ নিয়মিত একাকিত্ব অনুভব করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, নিঃসঙ্গতা কেবল শারীরিক দূরত্বের ফল নয়, বরং মানসিক সংযোগের অভাবই এর মূল কারণ।
নিঃসঙ্গতা মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গেও জড়িত। এটি এক ধরনের সতর্ক সংকেত, যা জানিয়ে দেয় সামাজিক সম্পর্কে কোথাও ঘাটতি রয়েছে। তবে এই অনুভূতি থেকে বেরিয়ে আসতে অর্থবহ সম্পর্ক গড়ে তোলা, অপরিচিতদের সঙ্গে সামান্য যোগাযোগ এবং প্রকৃতির সঙ্গে সংযোগ কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএ/এমআর


