খাবারের সময়সীমা সীমিত করার ধারণা নতুন নয়। ধর্মীয় উপবাসের চর্চা হাজার বছরের পুরোনো হলেও আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞানে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, রমজানের রোজা ও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ের প্রভাব কি একই ধরনের।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সাধারণত ১৬:৮ বা ১৮:৬ পদ্ধতিতে করা হয়। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সময় খাবার গ্রহণ করা হয় এবং বাকি সময় উপবাস পালন করা হয়। অন্যদিকে রমজানে সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকতে হয়। উভয় ক্ষেত্রেই শরীর দীর্ঘ সময় খাবার ছাড়া থাকে, যার ফলে ইনসুলিনের মাত্রা কমে এবং শরীর সঞ্চিত চর্বি শক্তির উৎস হিসেবে ব্যবহার করতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকলে ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত হয়, ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং কোষের মেরামত প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে।
তবে দুটি পদ্ধতির মধ্যে বড় পার্থক্যও রয়েছে। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে পানি, চিনি ছাড়া চা বা কফি পান করা যায়। কিন্তু রোজায় নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত পানি পানও নিষিদ্ধ, ফলে বিশেষ করে গরম আবহাওয়ায় পানিশূন্যতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।
আরেকটি পার্থক্য খাবারের ধরন ও পরিমাণে। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে ক্যালোরি নিয়ন্ত্রণ গুরুত্বপূর্ণ হলেও রোজায় ইফতার ও সেহরিতে অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণ করলে ওজন কমার পরিবর্তে বাড়তেও পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, ফাস্টিংয়ের উপকার নির্ভর করে সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের ওপর। শুধু উপবাস থাকলেই হবে না, কী খাওয়া হচ্ছে এবং কতটা খাওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, দীর্ঘ সময় ক্যালোরি সীমিত থাকলে অটোফ্যাজি প্রক্রিয়া সক্রিয় হতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে ঠিক কত ঘণ্টা উপবাসে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়, তা এখনো পুরোপুরি নির্ধারিত নয়। ফলে রোজা ও ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিংয়ে অটোফ্যাজির মাত্রা এক হবে—এমন নিশ্চিত দাবি করা যায় না।
সিএ/এমআর


