আজকের শিশুরা প্রথম প্রজন্ম, যারা খুব অল্প বয়স থেকেই স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের সঙ্গে বেড়ে উঠছে। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে, এই অভ্যাস শিশুদের মস্তিষ্কের ওপর দীর্ঘমেয়াদি ও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। টেলিভিশনের যুগ থেকেই শিশু বিকাশে স্ক্রিন টাইমের প্রভাব নিয়ে আলোচনা থাকলেও আধুনিক স্মার্ট ডিভাইসের প্রভাব আরও গভীর ও নিবিড় বলে মনে করছেন গবেষকরা।
গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম বাবা-মা ও শিশুর মধ্যে স্বাভাবিক ভাবের আদান-প্রদানে বাধা সৃষ্টি করে। শিশুরা যত বেশি সময় পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকে, তাদের কথা বলা, শোনা এবং সংলাপে অংশ নেওয়ার প্রবণতা তত কমে যায়। ভাষা দক্ষতা কগনিটিভ, সামাজিক ও সাক্ষরতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। খুব ছোট বয়স থেকেই ভাষার ব্যবহার শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশকে প্রভাবিত করে।
অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা প্রায় ২০০ শিশুকে নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি এক গবেষণা করেন। ১২ মাস থেকে ৩৬ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুদের ওপর পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। গবেষণার অংশ হিসেবে শিশুদের পোশাকে বিশেষ রেকর্ডিং ডিভাইস লাগানো হয়েছিল, যার মাধ্যমে শিশু ও অভিভাবকদের কণ্ঠ এবং আশপাশের গ্যাজেটের শব্দ ধারণ করা হয়।
গবেষণায় দেখা যায়, ১৮ মাস বয়সে শিশুদের প্রতি অতিরিক্ত মিনিট স্ক্রিন টাইমে তারা একটি করে কম মৌখিক শব্দ ব্যবহার করছে। দুই বছর বয়সে পৌঁছানোর পর প্রতি দুই মিনিট স্ক্রিন টাইমে বাবা-মা ও শিশুর মধ্যে একটি করে পূর্ণ সংলাপ কমে যাচ্ছে। তিন বছর বয়সে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট হয়। তখন প্রতিদিন গড়ে তিন ঘণ্টা স্ক্রিন টাইমের কারণে শিশুদের শব্দ শোনা ও বলা দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। গবেষকরা এই পরিস্থিতিকে টেকনোফিয়ারেন্স হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজিটাল ডিভাইস ব্যবহার শেখা আধুনিক যুগে জরুরি হলেও শিশুদের সঙ্গে এসব ডিভাইসের সম্পর্ক স্বাস্থ্যকর হওয়া প্রয়োজন। বাবা-মায়ের সচেতন ভূমিকা শিশুর ভাষা ও সামাজিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
সিএ/এমআর


