চোখের পাতা লাফানো নিয়ে আমাদের সমাজে নানা ধরনের প্রচলিত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, চোখের পাতা লাফানো মানে সামনে কোনো অমঙ্গল ঘটতে পারে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে চোখের পাতা লাফানোর সঙ্গে ভাগ্য বা কুসংস্কারের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি মূলত চোখের চারপাশের সূক্ষ্ম পেশির অনৈচ্ছিক সংকোচন, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে মায়োকাইমিয়া বলা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক এবং ক্ষতিকর নয়, তবে জীবনযাপনের কিছু সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
চোখের পাতা লাফানোর সবচেয়ে বড় কারণ হলো অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও অপর্যাপ্ত ঘুম। দীর্ঘ সময় পর্যাপ্ত বিশ্রাম না পেলে স্নায়ুগুলো অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে পড়ে, যার প্রভাব পড়ে চোখের পেশিতে। এর ফলে চোখের পাতা অনিয়ন্ত্রিতভাবে কাঁপতে শুরু করে।
এছাড়া দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটার, স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে। এই ডিজিটাল আই স্ট্রেন থেকেও চোখের পাতা লাফাতে পারে। অতিরিক্ত চা বা কফি গ্রহণের অভ্যাস থাকলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়, কারণ ক্যাফেইন স্নায়ুকে উত্তেজিত করে পেশির স্পন্দন বাড়িয়ে দেয়।
চোখের শুষ্কতাও একটি বড় কারণ। বয়সজনিত কারণে বা দীর্ঘক্ষণ শীতাতপনিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকার ফলে চোখ শুষ্ক হয়ে গেলে চোখের পাতা লাফানোর সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি শরীরে ম্যাগনেশিয়াম বা ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি থাকলেও পেশিতে খিঁচুনি বা পাতা লাফানোর মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
সাধারণত চোখের পাতা লাফানো কয়েক মিনিট থেকে কয়েক দিনের মধ্যেই নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে যদি এটি বিরতিহীনভাবে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলতে থাকে, চোখ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যেতে শুরু করে, মুখের অন্য পেশিও কাঁপতে থাকে কিংবা চোখ লাল হয়ে পানি পড়ে ও ফুলে ওঠে—তাহলে অবশ্যই চক্ষুবিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
এই সমস্যা কমাতে নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো, ক্যাফেইন গ্রহণ কমানো এবং দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে না থেকে প্রতি ২০ মিনিট অন্তর চোখের বিশ্রাম নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। প্রয়োজনে পরিষ্কার তোয়ালেতে হালকা গরম পানি নিয়ে চোখে সেঁক দিলে পেশি শিথিল হয়ে অস্বস্তি কমে।
সিএ/এমআর


