বাংলাদেশি কম্পিউটার বিশেষজ্ঞ সালেহ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। কর্মজীবনে তিনি কাজ করেছেন জেরক্স ও আইবিএমের মতো প্রতিষ্ঠানে এবং সৌদি আরবের কিং ফাহাদ বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটারবিজ্ঞানে শিক্ষকতা করেছেন। প্রোগ্রামিংয়ের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক কেবল প্রযুক্তিগত নয়, বরং সৃজনশীলতার সঙ্গেও গভীরভাবে যুক্ত—যার শেকড় তিনি খুঁজে পান কবিতার ছন্দে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় কবিতা লেখার অভ্যাস ছিল তাঁর। পরবর্তী সময়ে কম্পিউটারবিজ্ঞানে পড়াশোনার সময় তাঁকে শিখতে হয়েছে নানা প্রোগ্রামিং ভাষা। কাজের প্রয়োজনে জাভা, পাইথন ও রুবির মতো ভাষাও রপ্ত করতে হয়েছে। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে প্রিয় ভাষা ছিল সি। তিনি সি-কে কম্পিউটারের মাতৃভাষা হিসেবে দেখেন এবং অন্য ভাষাগুলোকে প্রয়োজনভিত্তিক বিদেশি ভাষার মতো ব্যবহার করেন।
তাঁর মতে, যেকোনো কাজের মধ্যেই ছন্দ থাকা জরুরি। ছন্দ নষ্ট হলে কাজও এলোমেলো হয়ে যায়। প্রোগ্রামিংয়েও একই বিষয় প্রযোজ্য। সি প্রোগ্রামিংয়ে তিনি কবিতার মতো ছন্দ ও সৌন্দর্য খুঁজে পেয়েছেন। কম শব্দে, সুচিন্তিত কাঠামোয় জটিল কাজ সম্পন্ন করার ক্ষমতাই সি ভাষার প্রতি তাঁর দুর্বলতার অন্যতম কারণ।
কর্মজীবনের শুরুর দিকে সি প্রোগ্রামিং তাঁকে চাকরি পেতে, টিকে থাকতে এবং সহকর্মীদের মধ্যে দক্ষতার স্বাক্ষর রাখতে সাহায্য করেছে। পরবর্তী সময়ে তিনি পিএইচডির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব লুজিয়ানায় ভর্তি হন। আর্থিক সংকটের মধ্যেই একসময় সি প্রোগ্রামিং কোর্স পড়ানোর সুযোগ পান, যা তাঁর জন্য নতুন আশার দ্বার খুলে দেয়।
পরে একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানে সফটওয়্যার প্রকৌশলী হিসেবে যোগ দেন তিনি। যদিও সেখানে ফোরট্রান ভাষায় কাজ করার শর্ত ছিল, বাস্তব প্রয়োজনে তিনি গোপনে সি ভাষায় পুরো প্রকল্পটি সম্পন্ন করেন। দীর্ঘ সময় পর বিষয়টি প্রকাশ পেলেও তাঁর কাজের মানই শেষ পর্যন্ত তাঁর দক্ষতার স্বীকৃতি এনে দেয়।
এই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে সালেহ উদ্দিন আহমদের উপলব্ধি, প্রোগ্রামিং কেবল কোড লেখার বিষয় নয়; এর মধ্যেও কবিতার মতো ছন্দ, সৌন্দর্য ও সৃজনশীলতা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।
সিএ/এমআর


