কথা জানাতে গেলে অনেকেই কেন চকলেটের দিকেই হাত বাড়ান, সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হলে ফিরে যেতে হয় ইতিহাস, জৈবিক বিজ্ঞান এবং মনোবিজ্ঞানের দিকে।
চকলেট খাওয়ার পর যে আনন্দ ও ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি হয়, তা কেবল স্বাদের কারণে নয়। এর ভেতরে থাকা ফেনাইল ইথাইলামাইন নামের রাসায়নিক উপাদানকে অনেক সময় লাভ ড্রাগ বলা হয়। প্রেমে পড়লে মস্তিষ্কে যে রাসায়নিক নিঃসরণ হয়, চকলেটেও তার উপস্থিতি থাকে। এটি ডোপামিনের মাত্রা বাড়িয়ে উত্তেজনা ও আনন্দের অনুভূতি তৈরি করে।
এ ছাড়া চকলেট সেরোটোনিন ও এন্ডোরফিনের নিঃসরণ বাড়াতে সহায়তা করে, যা মানসিক চাপ কমায় এবং প্রশান্তির অনুভূতি এনে দেয়। বিশেষ করে ডার্ক চকলেটে থাকা ফ্ল্যাভোনয়েডস রক্ত সঞ্চালন বাড়িয়ে শরীরে সজীবতা ও উষ্ণতার অনুভূতি তৈরি করে, যা রোমান্টিক আবহকে আরও গভীর করে।
মানসিক দিক থেকেও চকলেটের সঙ্গে রোমান্সের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। চকলেটের গলনাঙ্ক মানুষের শরীরের তাপমাত্রার কাছাকাছি হওয়ায় মুখে দিলেই এটি ধীরে গলে গিয়ে এক ধরনের আনন্দদায়ক অনুভূতি সৃষ্টি করে। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কাউকে চকলেট উপহার দেওয়া মানে তার প্রতি যত্ন, স্নেহ ও ভালোবাসার প্রকাশ।
চকলেট ভাগ করে নেওয়া বা একে অপরকে খাইয়ে দেওয়ার মধ্যেও ঘনিষ্ঠতার বার্তা থাকে। তাই চকলেট কেবল একটি খাবার নয়, বরং ভালোবাসা ও আবেগ প্রকাশের একটি শক্তিশালী প্রতীক হিসেবেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
সিএ/এমআর


