সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলেছে, বদলেছে বিয়ে নিয়ে মানুষের ভাবনাও। কেউ মনে করেন ক্যারিয়ার গুছিয়ে তিরিশের পর স্থির হয়ে বিয়ে করাই বুদ্ধিমানের কাজ। আবার অনেকের বিশ্বাস, তরুণ বয়সের সাহস, ভালোবাসা আর একসঙ্গে বেড়ে ওঠার মধ্যেই লুকিয়ে আছে সুখের চাবিকাঠি। ফলে প্রশ্ন থেকেই যায়, বিয়ের জন্য আদর্শ বয়স কি সত্যিই নির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা, নাকি তা পুরোপুরি ব্যক্তিগত প্রস্তুতি ও জীবনের লক্ষ্য নির্ভর।
২০-এর কোঠায় বিয়ে করলে অনেক দম্পতির মধ্যে একসঙ্গে বেড়ে ওঠার সুযোগ তৈরি হয়। তরুণ বয়সের সম্পর্কে উচ্ছ্বাস ও মানসিক সংযোগ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। ব্রিগহ্যাম ইয়াং ইউনিভার্সিটির উইটলি ইনস্টিটিউটের ২০২২ সালের এক গবেষণায় দেখা গেছে, ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সে বিয়ে করা দম্পতিদের মধ্যে বৈবাহিক সন্তুষ্টির হার প্রায় ৮১ শতাংশ, যেখানে দেরিতে বিয়ে করা দম্পতিদের ক্ষেত্রে তা ছিল ৭১ শতাংশ। যৌন সন্তুষ্টির হারেও কম বয়সে বিয়ের ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতা দেখা যায়।
তবে কম বয়সে বিয়ের সঙ্গে বাস্তবতার চ্যালেঞ্জও জড়িয়ে থাকে। মানসিক পরিপক্বতার অভাব, আর্থিক চাপ কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত দায়িত্ব অনেক সময় দাম্পত্যে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। যারা এসব বাধা অতিক্রম করতে পারেন, তারা সাধারণত গভীর বন্ধনে আবদ্ধ হন এবং একে অপরের শক্তিশালী সহযোদ্ধা হয়ে ওঠেন।
অন্যদিকে তিরিশের পর বিয়ের ক্ষেত্রে স্থিতি ও সামঞ্জস্যের যুক্তি বেশি জোরালো। যুক্তরাষ্ট্রের আদমশুমারির দীর্ঘমেয়াদি বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৫ থেকে ৩৪ বছরের মধ্যে প্রথম বিয়ের সাফল্যের হার তুলনামূলকভাবে বেশি এবং ২৫ বছরের পর বিয়ে করলে বিচ্ছেদের ঝুঁকি প্রায় ২৪ শতাংশ কমে। এ বয়সে মানুষ সাধারণত বেশি পরিণত হন, আর্থিক নিরাপত্তা গড়ে ওঠে এবং সম্পর্ক পরিচালনার দক্ষতা বৃদ্ধি পায়।
তবে দেরিতে বিয়ের ক্ষেত্রেও কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গী নির্বাচনে খুঁতখুঁতে ভাব, অতীত অভিজ্ঞতার মানসিক চাপ এবং নারীদের ক্ষেত্রে সন্তান ধারণের সময়সীমা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিতে পারে।
সব দিক বিবেচনায় গবেষকদের একটি অংশ মনে করেন, ২২ থেকে ২৫ বছরের মধ্যবর্তী সময়টি তুলনামূলকভাবে ভারসাম্যপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত বিয়ের সঠিক সময় নির্ভর করে ব্যক্তির মানসিক প্রস্তুতি, জীবনদর্শন ও লক্ষ্যবোধের ওপর। সুখী দাম্পত্যের মূল চাবিকাঠি বয়স নয়, বরং পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দায়িত্ববোধ।
সিএ/এমআর


