হঠাৎ ফোন পাশে না পেলে বুক ধড়ফড় করা, অস্থির হয়ে পড়া কিংবা অকারণ বিরক্তি—এ ধরনের অভিজ্ঞতা এখন অনেকেরই পরিচিত। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থার নাম নোমোফোবিয়া, অর্থাৎ মোবাইল ফোন ছাড়া থাকার ভয়। যদিও এটি এখনো আনুষ্ঠানিক মানসিক রোগ হিসেবে তালিকাভুক্ত নয়, তবে মনোবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে একে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্বেগজনিত সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা যায়, স্মার্টফোন এখন কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়; এটি কাজ, বিনোদন, সামাজিক যোগাযোগ এমনকি নিরাপত্তাবোধের সঙ্গেও জড়িয়ে গেছে। ফলে ফোন থেকে দূরে থাকলে মস্তিষ্কে ডোপামিন-নির্ভর রিওয়ার্ড সাইকেল ভেঙে যায়, যা উদ্বেগ ও অস্বস্তির জন্ম দেয়।
নোমোফোবিয়ার সাধারণ লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ফোন হাতে না থাকলে বুক ধড়ফড় করা, চার্জ কমে গেলে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, নেটওয়ার্ক না থাকলে বিরক্তি কিংবা ঘুমানোর সময় ফোন পাশে না রাখলে অস্বস্তি। এসব লক্ষণ যদি দৈনন্দিন জীবন ও সম্পর্কের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে, তখন বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, কিশোর ও তরুণদের মধ্যে নোমোফোবিয়ার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি। তবে দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ, একাকীত্ব বা কাজের অতিরিক্ত চাপ থাকলে যেকোনো বয়সের মানুষই এতে আক্রান্ত হতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, এ সমস্যা কাটাতে নির্দিষ্ট সময় ফোন ব্যবহার না করা, ঘুমের সময় ফোন দূরে রাখা, নোটিফিকেশন সীমিত করা এবং অফলাইন অভ্যাস বাড়ানো কার্যকর হতে পারে। প্রয়োজন হলে কাউন্সেলরের সহায়তা নেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
সিএ/এমআর


