স্বর্ণের বাজারে দামের ঊর্ধ্বগতি থাকলেও গহনা কেনার আগ্রহ কমেনি। উচ্চমূল্য পরিশোধ করেও অনেকেই স্বর্ণের গহনা কিনছেন। তবে গহনা কেনার আগে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সেটি খাঁটি কি না, তা নিশ্চিত হওয়া। কারণ প্রথম দেখায় আসল ও নকল স্বর্ণের মধ্যে পার্থক্য বোঝা সহজ নয়।
খাঁটি স্বর্ণ চেনার সবচেয়ে সহজ ও নির্ভরযোগ্য উপায় হলো বিআইএস হলমার্ক যাচাই করা। এই হলমার্কে সাধারণত ত্রিভুজ আকৃতির বিআইএস লোগো, হলমার্কিং সেন্টারের সিল এবং স্বর্ণের বিশুদ্ধতার মান উল্লেখ থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এসব চিহ্ন গহনার ভেতরের অংশে খোদাই করা থাকে।
স্বর্ণের বিশুদ্ধতা সাধারণত ক্যারেট বা কেটি দিয়ে নির্ধারণ করা হয়। ২৪ কেটি স্বর্ণ সবচেয়ে খাঁটি হিসেবে বিবেচিত হলেও গহনা তৈরিতে সাধারণত ২২ কেটি, ১৮ কেটি, ১৪ কেটি বা ১০ কেটি স্বর্ণ ব্যবহার করা হয়। ফাইননেস নম্বর যত বেশি হবে, স্বর্ণের মান তত উন্নত বলে ধরা হয়।
নাইট্রিক অ্যাসিড পরীক্ষাও স্বর্ণের খাঁটিত্ব যাচাইয়ের একটি উপায়। খাঁটি স্বর্ণ নাইট্রিক অ্যাসিডের সঙ্গে বিক্রিয়া করে না। অল্প পরিমাণ অ্যাসিড গহনার ওপর ফেললে যদি সবুজ রঙ ধারণ করে, তবে সেটি খাঁটি স্বর্ণ নয় বলে ধরে নেওয়া যায়।
চুম্বক পরীক্ষার মাধ্যমেও স্বর্ণের মান বোঝা যায়। খাঁটি স্বর্ণ কখনোই চুম্বকের দিকে আকৃষ্ট হয় না। গহনা যদি চুম্বকের সঙ্গে আটকে যায়, তাহলে সেটি নকল বা মিশ্র ধাতুর হতে পারে।
এ ছাড়া চিনামাটি বা সিরামিকের প্লেটের ওপর স্বর্ণ ঘষে দেখার পদ্ধতিও প্রচলিত। যদি প্লেটের ওপর কালচে দাগ পড়ে, তবে স্বর্ণটি খাঁটি নয় বলে ধারণা করা হয়। এসব বিষয় জানা থাকলে গহনা কেনার সময় প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
সিএ/এমআর


