গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির সমস্যা বর্তমানে খুবই সাধারণ একটি স্বাস্থ্যঝুঁকি। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় অ্যাসিডিটির ওষুধ খাওয়া স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই ওষুধের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
খাওয়া-দাওয়ায় অনিয়ম, স্বাস্থ্যকর খাবারের অভাব, পর্যাপ্ত পানি না পান করা এবং শারীরিক পরিশ্রম কম হলে পাকস্থলীতে অতিরিক্ত গ্যাস ও অ্যাসিড তৈরি হয়। কিছু ঘরোয়া খাবার নিয়মিত গ্রহণ করলে স্বাভাবিকভাবেই এই সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব।
পুদিনা পাতার রয়েছে বায়ুনিরোধক ও শীতলকারী গুণ। বুক ও পেটে জ্বালাপোড়া, পেট ফাঁপা কিংবা বমি ভাব কমাতে পুদিনা বেশ কার্যকর। অ্যাসিডিটির লক্ষণ দেখা দিলে কয়েকটি পুদিনা পাতা চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। চাইলে পানিতে ফুটিয়ে বা সামান্য মধু মিশিয়েও এটি পান করা যায়।
হালকা গরম পানি অ্যাসিডিটি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এবং রাতে ঘুমানোর আগে হালকা গরম পানি পান করলে পাকস্থলীর অস্বস্তি কমে।
আদা পাকস্থলীর অতিরিক্ত অ্যাসিড কমাতে সহায়তা করে। এক টুকরো আদা চিবিয়ে খাওয়া বা আদা ফুটানো পানি পান করলে উপকার পাওয়া যায়। আদার রস দিনে দুই থেকে তিনবার খেলে অ্যাসিডিটির সমস্যা ধীরে ধীরে কমতে পারে।
হজমের সমস্যা ও পেট ব্যথা কমাতে জিরা অত্যন্ত উপকারী। পানিতে জিরা, ধনে ও মৌরি গুঁড়ো মিশিয়ে খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিকের উপশম হয়। খাবারের পর জিরা ফুটানো পানি পান করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।
লবঙ্গও অ্যাসিডিটি ও গ্যাস কমাতে কার্যকর। দুই থেকে তিনটি লবঙ্গ মুখে রেখে দিলে কিংবা লবঙ্গ ও এলাচ গুঁড়ো হালকা গরম পানিতে মিশিয়ে খেলে বুক জ্বালাপোড়া ও মুখের দুর্গন্ধ দূর হয়।
সিএ/এমআর


