আত্মবিশ্বাস মানুষের ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে পেশাগত সফলতা পর্যন্ত সবকিছুর ওপর প্রভাব ফেলে। এটি জন্মগত কোনো গুণ নয়, বরং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চর্চার মাধ্যমে গড়ে ওঠে। অনেকেই নিজের ওপর আস্থা রাখতে পারেন না, সামান্য ব্যর্থতায় ভেঙে পড়েন। তবে নিয়মিত কিছু অভ্যাস গড়ে তুললে আত্মবিশ্বাস বাড়ানো সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধির প্রথম ধাপ হলো নিজের শক্তি ও দক্ষতাকে চিহ্নিত করা। প্রত্যেক মানুষেরই আলাদা প্রতিভা ও গুণাবলি রয়েছে। নিজের দুর্বলতার দিকে অতিরিক্ত মনোযোগ না দিয়ে, যে বিষয়গুলোতে দক্ষ সেগুলোর স্বীকৃতি দেওয়া জরুরি। নিজের সাফল্য ও সামর্থ্যের জন্য কৃতজ্ঞ থাকার অভ্যাস মানসিকতাকে ইতিবাচক করতে সহায়তা করে। অনেকেই প্রতিদিন কৃতজ্ঞতার বিষয়গুলো লিখে রাখেন, যা ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সাহায্য করে।
অন্যদের সঙ্গে নিজেকে তুলনা করা আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের সাফল্য দেখে নিজেকে পিছিয়ে পড়া মনে হতে পারে। কিন্তু প্রত্যেক মানুষের জীবনের পথ আলাদা। নিজের অগ্রগতির সঙ্গে অন্যের তুলনা না করে, নিজের উন্নতির দিকে নজর দেওয়াই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার উপায়।
নিজের সঙ্গে নেতিবাচক কথা বলা আত্মবিশ্বাসের বড় বাধা। নিজের ভুল বা সীমাবদ্ধতাকে বারবার মনে করিয়ে দিলে মানসিক শক্তি কমে যায়। এ ধরনের চিন্তার পরিবর্তে ইতিবাচক ভাবনা গড়ে তুলতে পারলে আত্মবিশ্বাস দ্রুত বাড়ে। সচেতনভাবে নিজের প্রতি সদয় হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
যে কোনো কাজের আগে ভালোভাবে প্রস্তুতি নেওয়া আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক। পরীক্ষা, উপস্থাপনা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বৈঠক— প্রস্তুতি থাকলে ভয় ও উদ্বেগ কমে। প্রস্তুতির মাধ্যমে নিজের ওপর আস্থা তৈরি হয় এবং কাজের ফলও ভালো হয়।
অন্যদের প্রতি বিনয়ী ও সদয় হওয়াও আত্মবিশ্বাস গঠনে ভূমিকা রাখে। কাউকে সাহায্য করা বা সহানুভূতি দেখানো নিজের ভেতরের ইতিবাচক অনুভূতিকে জোরালো করে। এতে সামাজিক সম্পর্কও দৃঢ় হয়, যা আত্মবিশ্বাসের জন্য প্রয়োজনীয়।
সিএ/এমআর


