প্রত্যেক মানুষেরই মনের মতো একটি বাড়ি গড়ার স্বপ্ন থাকে। তবে বিশ্বের কিছু বাড়ি কেবল বসবাসের জায়গা নয়, বরং সেগুলো হয়ে উঠেছে রাজকীয় ঐতিহ্য, আধুনিক স্থাপত্যশৈলী ও সীমাহীন বিলাসিতার প্রতীক। ঐতিহাসিক প্রাসাদ থেকে শুরু করে আধুনিক সুপার-লাক্সারি ম্যানশন—এমনই বিশ্বের সবচেয়ে দামি ১০টি বিলাসবহুল বাড়ির তালিকা প্রকাশ করেছে ফোর্বস ইন্ডিয়া।
এই তালিকায় থাকা বাড়িগুলো শুধু দামের দিক থেকেই নয়, বরং ইতিহাস, নকশা, সুযোগ-সুবিধা ও মালিকানার কারণে বিশ্বজুড়ে বিশেষ আলোচনায় রয়েছে। ইউরোপের রাজকীয় প্রাসাদ থেকে শুরু করে আমেরিকা ও এশিয়ার আধুনিক অট্টালিকা—সবই জায়গা করে নিয়েছে এই তালিকায়।
তালিকায় শীর্ষে রয়েছে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত বাকিংহাম প্যালেস। ব্রিটিশ রাজার আনুষ্ঠানিক বাসভবন ও প্রশাসনিক দফতর হিসেবে ব্যবহৃত এই প্রাসাদের মূল্য ধরা হয় প্রায় ৪৯০ কোটি মার্কিন ডলার। ১৭০৫ সালে নির্মিত এ প্রাসাদটি ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের মর্যাদা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। বিশাল বাগান, ব্যালকনি, শিল্পসংগ্রহশালা ও রাজকীয় অনুষ্ঠানস্থল রয়েছে এখানে।
ভারতের মুম্বাইয়ের আলতামাউন্ট রোডে অবস্থিত অ্যান্টিলিয়া তালিকার দ্বিতীয় স্থানে। শিল্পপতি মুকেশ আম্বানির মালিকানাধীন এই ২৭ তলা ভবনটির উচ্চতা প্রায় ৫৭০ ফুট। তিনটি হেলিপ্যাড, ১৬৮ গাড়ির গ্যারেজ, থিয়েটার, সুইমিংপুল ও স্নো রুমসহ নানা বিলাসবহুল সুবিধা রয়েছে এখানে। নির্মাণ ব্যয় ছাড়িয়ে এর বাজারমূল্য কয়েকশ মিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।
ফ্রান্সের ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরাতে অবস্থিত ভিলা লিওপোল্ডা একসময় বেলজিয়ামের রাজা দ্বিতীয় লিওপোল্ডের ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় এটি সামরিক হাসপাতাল হিসেবেও ব্যবহৃত হয়। পরে এটিকে নান্দনিক ‘নিও প্যালাডিয়ান মাস্টারপিস’ হিসেবে রূপ দেওয়া হয়। এই ভিলার মূল্য প্রায় ৭৫ কোটি ডলার।
একই অঞ্চলে অবস্থিত ভিলা লেস সেদ্রেস নির্মিত হয় ১৮৩০ সালের দিকে। ১৮ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই বাড়িতে রয়েছে ১৪টি শোবার ঘর, বিশাল গ্রন্থাগার ও বলরুম। এর মূল্য প্রায় ৪৫ কোটি ডলার।
ফ্রান্সের কানে অবস্থিত লেস পালাইস বুলস নির্মিত হয় ১৯৭৫ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে। প্রায় ১৩ লাখ বর্গফুট আয়তনের এই বাড়িতে রয়েছে অভ্যর্থনা হল, ৫০০ আসনের ছাদখোলা অ্যাম্ফিথিয়েটার, সুইমিংপুল ও কৃত্রিম জলপ্রপাত। এর দাম প্রায় ৪২ কোটি ডলার।
মোনাকোর দ্য ওডিয়ন টাওয়ার পেন্টহাউস আধুনিক বিলাসিতার আরেক উদাহরণ। ছাদের ওপর সুইমিংপুল, ব্যক্তিগত প্রেক্ষাগৃহসহ নানা সুবিধা থাকা এই পেন্টহাউসের মূল্য প্রায় ৩৩ কোটি ডলার।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত ফোর ফেয়ারফিল্ড পন্ড প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার বর্গফুট জায়গাজুড়ে বিস্তৃত। ২৯টি শোবার ঘর, ৩৯টি শৌচাগার, বোলিং অ্যালি ও টেনিস কোর্টসহ এই বাড়িটির দাম প্রায় ২৫ কোটি ডলার।
লন্ডনের বিলিয়নিয়ারস রো হিসেবে পরিচিত কেনসিংটন গার্ডেনসের ১৮-১৯ নম্বর বাড়িটি নির্মিত হয় ১৮৪৭ সালে। কূটনৈতিক মিশন ও ধনীদের আবাসস্থল হিসেবে পরিচিত এই এলাকার বাড়িটির মূল্য প্রায় ২২ কোটি ২০ লাখ ডলার।
মার্কিন সংগীত তারকা বিয়ন্স ও জে-জেডের মালিবু ম্যানশনও তালিকায় রয়েছে। প্রশান্ত মহাসাগরের দৃশ্য উপভোগের সুবিধাসহ এই আধুনিক ম্যানশনের মূল্য প্রায় ২০ কোটি ডলার।
তালিকার শেষ দিকে রয়েছে ওরাকল করপোরেশনের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসনের এলিসন এস্টেট। ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত এই জাপানি ঢঙের এস্টেটটি ২৩ একর জায়গাজুড়ে নির্মিত। এর আনুমানিক মূল্য ২০ কোটি ডলার।
সূত্র: ফোর্বস ইন্ডিয়া
সিএ/এসএ


