মানুষের পাঁচটি ইন্দ্রিয়ের মধ্যে শ্রবণশক্তি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ। শিশুর ভাষা শেখা, পড়াশোনা এবং সামাজিক যোগাযোগে শ্রবণশক্তির ভূমিকা অপরিসীম। অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ ইন্দ্রিয়টির যত্ন নেওয়ার ব্যাপারে অনেকেই উদাসীন। জন্মগত বা অর্জিত বধিরতা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং সামাজিক ও মানসিক জটিলতা তৈরি করতে পারে।
বধিরতা বলতে আংশিক বা সম্পূর্ণ শ্রবণশক্তি হ্রাস বোঝায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে প্রায় ৫ শতাংশ মানুষ গুরুতর শ্রবণ সমস্যায় ভুগছেন। এটি শুধু শারীরিক অসুবিধা নয়; বরং শিক্ষা, কর্মজীবন ও সামাজিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে বধিরতাকে তিন ভাগে ভাগ করা হয়। কনডাকটিভ হিয়ারিং লস হয় কানে ময়লা জমা, কানের পর্দা ছিদ্র, মধ্যকর্ণের সংক্রমণ বা অসিকল সমস্যার কারণে। সেন্সরি নিউরাল হিয়ারিং লস হয় বয়সজনিত পরিবর্তন, শব্দদূষণ, বংশগত কারণ কিংবা কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়। আর মিক্সড হিয়ারিং লস হলো এই দুই সমস্যার সম্মিলিত রূপ।
প্রতিকারের ক্ষেত্রে সংক্রমণজনিত সমস্যায় অ্যান্টিবায়োটিক, অ্যালার্জিতে অ্যান্টিহিস্টামিন এবং কানে ময়লা জমলে নিরাপদ পদ্ধতিতে তা পরিষ্কার করা প্রয়োজন। প্রয়োজনে টিমপ্যানোপ্লাস্টি, মাইরিঙ্গোটমি, স্টেপেডেক্টোমি কিংবা ককলিয়ার ইমপ্ল্যান্টের মতো অস্ত্রোপচার করা যেতে পারে। হিয়ারিং এইড বা বোন অ্যাঙ্কর্ড ডিভাইসও কার্যকর সমাধান হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
প্রতিরোধের জন্য অতিরিক্ত শব্দ এড়িয়ে চলা, হেডফোন নিরাপদ মাত্রায় ব্যবহার, কটনবাড কানে প্রবেশ না করানো, নবজাতকের শ্রবণ স্ক্রিনিং এবং প্রয়োজনীয় টিকা গ্রহণ করা জরুরি। ওষুধ ব্যবহারে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ।
পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে নিয়মিত শ্রবণ পরীক্ষা, স্পিচ ও ল্যাঙ্গুয়েজ থেরাপি, বিশেষ শিক্ষা ব্যবস্থা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রশিক্ষণ বধির ব্যক্তিদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করে।
সিএ/এমআর


