আজকের দিনে, যখন মোবাইল হাতেই থাকলেই মনে হয় সবার সঙ্গে আমরা সংযুক্ত, তথাপি সম্পর্কের গভীরতা কমে যাচ্ছে এবং আমরা ভিন্নমতকে আগের মতো সহ্য করতে পারছি না। বিশেষত আন্তর্জাতিক সহনশীলতা দিবসে এই বিষয়টি মনোবিজ্ঞানী ও গবেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।
কেন কমছে সহনশীলতা?
১. ফিল্টার বাবল: সোশ্যাল মিডিয়া এক ধরনের একো-চেম্বার তৈরি করছে। আমরা সাধারণত নিজেদের মতের সমর্থক বন্ধুদের সঙ্গে বেশি যুক্ত হই এবং ভিন্নমতের মানুষের সঙ্গে কম কথা বলি। ফলে মতের পার্থক্যগুলোতে বিরোধ তৈরি হয় এবং সহনশীলতা কমে যায়।
২. এটেনশন-সাপোর্টেড কনটেন্ট: অনেক সময় আমরা ভাইরাল বা আবেগ-ভিত্তিক কনটেন্ট দেখি। এতে রেজ বা আক্রোশ-ভিত্তিক মন্তব্য বেশি মনোযোগ পায়, দীর্ঘ বিশ্লেষণ না করেই দ্রুত সিদ্ধান্তে পৌঁছাই এবং ভিন্নমতকে উপেক্ষা করি। এটিই মানসিক আচরণে “ইমোশনাল হোস্টিলিটি” বা অনুভূতিগত শত্রুতা তৈরি করে।
৩. অতিরিক্ত সময় অনলাইনে কাটানো: ভার্চুয়াল ইন্টার্যাকশন বাস্তব-মানবিক সম্পর্কের জায়গা দখল করছে। ফলে সামনাসামনি কথোপকথনে আমাদের সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধার অভাব দেখা দেয়।
৪. লুকিয়ে থাকা: অনলাইনে পরিচয় লুকানো যায়। তাই যে নেতিবাচক কথাটি মুখে বলা কঠিন, তা অনলাইনে সহজে লেখা হয়। এই আচরণ সহমর্মিতা হীন মনোভাবকে আরও দৃশ্যমান করছে।
তবে সবকিছু নেতিবাচক নয়। সচেতন যোগাযোগ, নৈতিক অনলাইন ব্যবহার এবং ভারসাম্যপূর্ণ ডিজিটাল-অফলাইন অভ্যাস সহনশীলতা বৃদ্ধি ও ভিন্নমতকে সম্মান করার শিক্ষা দিতে পারে।
সিএ/এমআর


