আমাদের সমাজে একসময় স্বামী-স্ত্রী সন্তান বা পরিবারের অন্য সদস্যদের সামনে ভালোবাসা প্রকাশ করাকে ভালো চোখে দেখা হতো না। সময়ের সঙ্গে এই দৃষ্টিভঙ্গি বদলাচ্ছে। কথা বলার সময় হাত স্পর্শ করা, দুর্বল মুহূর্তে আলিঙ্গন কিংবা বিদায়ের সময় কপালে চুমু দেওয়ার মতো আচরণ এখন অনেক পরিবারেই স্বাভাবিক হয়ে উঠছে। তবুও অনেকে মনে করেন, সন্তান এসব দেখলে অকালপক্ব হয়ে যেতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, শিশুদের সামনে বাবা-মায়ের স্বাস্থ্যকর স্নেহ ও ভালোবাসার প্রকাশ তাদের মানসিক নিরাপত্তা, সম্পর্কবোধ এবং ভবিষ্যৎ সম্পর্কের ধারণা গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে শিশুরা পরিবারকে একটি নিরাপদ জায়গা হিসেবে দেখতে শেখে।
শিশুরা যখন দেখে বাবা-মা একে অপরের সঙ্গে হাসছে, কথা বলছে এবং যত্ন নিচ্ছে, তখন তাদের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরি হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন পরিবেশে বড় হওয়া শিশুরা তুলনামূলকভাবে কম উদ্বিগ্ন হয় এবং আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে। তারা বুঝতে শেখে যে পরিবারের মূল সম্পর্কটি স্থিতিশীল এবং নির্ভরযোগ্য।
বাবা-মা শিশুদের প্রথম রোল মডেল। তারা ভালোবাসা, সম্মান ও যত্ন কীভাবে প্রকাশ করতে হয় তা বই পড়ে নয়, বরং প্রতিদিনের আচরণ দেখে শেখে। বাবা-মা যদি একে অপরের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনে, সম্মান দেখায় এবং ইতিবাচক আচরণ করে, তাহলে শিশুদের মনে স্বাস্থ্যকর সম্পর্কের একটি বাস্তব ধারণা তৈরি হয়, যা ভবিষ্যৎ বন্ধুত্ব ও দাম্পত্য সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে।
যেসব পরিবারে আবেগ প্রকাশ স্বাভাবিক, সেসব পরিবারের শিশুরা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশে বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে। এতে তাদের আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বৃদ্ধি পায় এবং অন্যের অনুভূতি বোঝার সক্ষমতাও গড়ে ওঠে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, বাবা-মায়ের সম্পর্ক সন্তোষজনক হলে শিশুদের আত্মসম্মান তুলনামূলকভাবে বেশি হয়। তারা স্কুলে বা সামাজিক পরিবেশে সম্পর্ক গড়তে বেশি আত্মবিশ্বাসী হয় এবং ইতিবাচক যোগাযোগের চর্চা করে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুর সামনে স্নেহ প্রকাশ ইতিবাচক হলেও বয়স উপযোগী সীমা বজায় রাখা জরুরি। হাত ধরা, আলিঙ্গন, প্রশংসাসূচক কথা বা হাসিখুশি আচরণ শিশুর জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত ব্যক্তিগত আচরণ বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি সন্তানদের সামনে শান্তভাবে মতবিরোধ মেটানোর দৃষ্টান্ত দেখানো তাদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক।
সিএ/এমআর


