কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত অগ্রগতির ফলে বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। নানা কাজে এআইয়ের ব্যবহার বাড়তে থাকায় মানুষের কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দাবি করা হয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাবে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩০ কোটি মানুষ চাকরি হারাতে পারেন।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ইতোমধ্যেই অনেক অফিসে এআইয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা আরও বাড়তে পারে। গবেষকদের ধারণা, অদূর ভবিষ্যতে কর্মজগতের প্রায় এক চতুর্থাংশ কাজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে সম্পন্ন হতে পারে, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে কর্মসংস্থানে।
সমীক্ষায় সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ খাত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রশাসনিক কাজকে। গবেষকদের মতে, প্রায় ৪৬ শতাংশ প্রশাসনিক কাজ এআই দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে। এর পরেই রয়েছে আইনি খাত, যেখানে প্রায় ৪৪ শতাংশ কাজ স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির দখলে যেতে পারে। পাশাপাশি লেখালেখি, নকশা তৈরি, ছবি আঁকা ইত্যাদি সৃজনশীল কাজেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে।
তবে যেসব কাজে সরাসরি শারীরিক পরিশ্রম ও মানুষের উপস্থিতি প্রয়োজন, সেগুলো আপাতত তুলনামূলক নিরাপদ বলে মনে করছেন গবেষকরা। ঘর পরিষ্কার, নির্মাণকাজ কিংবা হাতে-কলমে তৈরি কাজগুলোতে এখনো মানুষের বিকল্প হিসেবে এআই পুরোপুরি কার্যকর নয়।
তবুও বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তির উন্নতির গতি বিবেচনায় ভবিষ্যতে এসব ক্ষেত্রেও এআইয়ের প্রভাব বাড়তে পারে। এমনকি যারা এই প্রযুক্তি তৈরি ও পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত, তাদের কাজও একদিন স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিস্থাপিত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিশ্বব্যাপী কর্মসংস্থানের বাজারে এই পরিবর্তন কীভাবে প্রভাব ফেলবে এবং নতুন ধরনের কর্মক্ষেত্র কীভাবে সৃষ্টি হবে, তা নিয়ে এখনই আলোচনা শুরু হয়েছে বিভিন্ন মহলে।
সিএ/এমআর


