কেউ যখন বলে, “তুমি আরও ভালো করতে পারো,” তখন খারাপ লাগা স্বাভাবিক। তবে সমালোচনা যদি গঠনমূলকভাবে গ্রহণ করা যায়, তা নিজেকে উন্নত করার বড় হাতিয়ার হতে পারে। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদনের আলোকে দেখা যাক কীভাবে সমালোচনাকে রাগ বা আঘাত ছাড়াই সামলানো যায়
১. সমালোচনা ধ্বংসাত্মক না গঠনমূলক—ভেদ করতে শিখুন
সমালোচনার আগমুহূর্তে একে স্বাভাবিকভাবে গ্রহণ করতে বিরতি নিন। যদি কেউ আপনার চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে কটূ মন্তব্য করে, সেটিকে উপেক্ষা করুন। তবে কাজ বা আচরণ সম্পর্কিত পরামর্শ হলে মন দিয়ে শুনুন। কোন অংশ বাস্তবায়নযোগ্য তা আলাদা করে নোট করুন। গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে নিজের দক্ষতা উন্নত করা সম্ভব।
২. উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করুন
সমালোচনার প্রতি সবসময় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখানো উচিত নয়। কখনো কখনো খিটখিটে ধরণের পরামর্শও মূল্যবান হতে পারে। সমালোচনার কথাগুলোর মূল উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করুন, ব্যক্তিকে নয়। ভবিষ্যতে একই সমালোচনা আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগবে।
৩. প্রশ্ন করুন, আক্রমণ নয়
রাগ বা প্রতিরক্ষা কথোপকথনকে বন্ধ করে দেয়। সমালোচনার সময় প্রশ্ন করুন—“একটি উদাহরণ দেবেন?” বা “এটি একটু ব্যাখ্যা করবেন?”—এভাবে কথোপকথন অভিযোগ থেকে সমস্যা সমাধানের দিকে মোড় নেবে।
৪. সমালোচনা থেকে নিজেকে আলাদা করুন
একটি সমালোচনা পুরো ব্যক্তিত্বকে সংজ্ঞায়িত করে না। কাজ বা পারফরম্যান্সের ভুল শুধরানো যায়; মূল যোগ্যতা অক্ষত থাকে। তাই সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আঘাত মনে না করে শেখার সুযোগ হিসেবে নিন।
৫. ব্যক্তিগতভাবে নেবেন না
যে সমালোচনা কটূ বা ধ্বংসাত্মক, তা মূলত সমালোচকের চরিত্র প্রকাশ করে। তাদের রাগ, বিদ্রূপ বা কটূ মন্তব্যকে নিজের মূল্যবোধে প্রভাব ফেলতে দেবেন না। সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস হলো প্রাসঙ্গিক পরামর্শ গ্রহণ করা এবং অবিচল এগিয়ে চলা।
সমালোচনা সবসময় নেতিবাচক নয়। ধৈর্য ধরে মন দিয়ে শোনা, খোলামেলা মনোভাব রাখা এবং প্রাসঙ্গিক পরামর্শ কাজে লাগানো আপনার শেখার এবং নিজেকে উন্নত করার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে।
সিএ/এসএ


