অর্থনৈতিক উন্নতির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় মানুষের কিছু অভ্যাস। এগুলো অনেক সময় অজান্তেই গড়ে ওঠে এবং দীর্ঘদিন ধরে জীবনের অগ্রগতিকে আটকে রাখে। ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবেক আঞ্চলিক প্রধান ফকির আকতারুল আলম তার দীর্ঘ কর্মজীবনের অভিজ্ঞতা থেকে এমন কয়েকটি অভ্যাস চিহ্নিত করেছেন, যেগুলো ধনী হওয়ার পথে অন্তরায় হিসেবে কাজ করে।
তিনি মনে করেন, কাজ আজই করা সম্ভব হলেও কাল করব বলে ফেলে রাখা একটি বড় নেতিবাচক অভ্যাস। এতে সময় নষ্ট হয় এবং সুযোগ হাতছাড়া হয়। একইভাবে অল্প বেতনের চাকরিতে বছরের পর বছর সন্তুষ্ট থেকে উন্নতির জন্য আন্তরিক চেষ্টা না করাও ব্যক্তিগত অগ্রগতিকে সীমাবদ্ধ করে রাখে।
অন্যরা কী ভাবছে, তা নিয়ে অতিরিক্ত চিন্তা করা এবং নিজের অবস্থার জন্য অন্যকে দায়ী করার প্রবণতাও সাফল্যের পথে বাধা সৃষ্টি করে। অনেকেই ধনী হওয়ার চেয়ে বড়লোকি দেখাতে বেশি আগ্রহী হন, যা আর্থিক ভারসাম্য নষ্ট করে। অনুকূল পরিস্থিতির অপেক্ষায় সময় নষ্ট করা, সারাক্ষণ অভিযোগ করা কিংবা চ্যালেঞ্জ এড়িয়ে চলাও অগ্রগতির গতি কমিয়ে দেয়।
প্রতিজ্ঞা ভঙ্গ করা, বিশেষ করে সামর্থ্যের বাইরে প্রতিশ্রুতি দেওয়া ভবিষ্যতের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে। ব্যর্থতার পর নতুন করে শুরু না করা, পরচর্চায় সময় ব্যয় করা কিংবা নিরাপদ পথ বেছে নিয়ে ঝুঁকি এড়িয়ে চলাও উন্নতির সম্ভাবনাকে সীমিত করে।
অনেক সময় ব্যস্ত থাকলেও ফলপ্রসূ কাজ না করা, বেশি কথা বলে কম কাজ করা কিংবা অন্যের কাজে বেশি মনোযোগ দিয়ে নিজের উন্নতি ভুলে যাওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। একই ভুল বারবার করা, অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে নিজেকেই সব সময় সঠিক মনে করা এবং সবকিছু ব্যক্তিগতভাবে নিয়ে আবেগতাড়িত হওয়াও ক্ষতিকর অভ্যাসের মধ্যে পড়ে।
আয় বাড়ার সঙ্গে ব্যয় বাড়িয়ে দেওয়া, সঞ্চয় ও বিনিয়োগে অনীহা, সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগা এবং অন্যের সঙ্গে নিজের তুলনা করাও আর্থিক স্থিতিশীলতার পথে বাধা সৃষ্টি করে। অন্যকে খুশি করতে গিয়ে নিজের লক্ষ্য ভুলে যাওয়া কিংবা শিক্ষার চেয়ে বিনোদনকে প্রাধান্য দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করাও দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
এই অভ্যাসগুলো একদিনে পরিবর্তন করা সহজ নয়। তবে ছোট পরিবর্তনের মাধ্যমে সচেতনভাবে চেষ্টা করলে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


