সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর প্রথম কয়েক ঘণ্টা শরীরের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই এই সময়েই মোবাইল ব্যবহার শুরু করেন বা অফিসের কাজ নিয়ে স্ট্রেসে থাকেন। এই ধরনের অভ্যাস হার্টের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে যাদের আগে থেকেই হার্টের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য সকালবেলার সতর্কতা অপরিহার্য।
জীবনযাত্রা সম্পর্কে সচেতন না হলে যে কোনো বয়সেই হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে। উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিসের সমস্যা থাকলে এ বিষয়ে আরও সাবধান থাকা প্রয়োজন। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, প্রক্রিয়াজাত খাবার, ভাজাভুজি ও বাইরের তেল-মসলাদার খাবারের বেশি ব্যবহার হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, ঘুম থেকে ওঠার পর শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায়, প্লেটলেটের আঠালো ভাব বৃদ্ধি পায় এবং রক্তচাপও বৃদ্ধি পায়। এই কারণেই সকালের দিকে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি থাকে। তবে কিছু সচেতন অভ্যাস হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
হৃদরোগ চিকিৎসক সঞ্জয় ভোজরাজ সামাজিক মাধ্যমে জানিয়েছেন, গবেষণায় দেখা গেছে সকাল ৭টা থেকে ১১টার মধ্যে হার্ট অ্যাটাকে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বেশি। বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যায়। তিনি বলেন, ঘুম থেকে উঠে সরাসরি কফি খাওয়া, পানি না খাওয়া, ওষুধপত্র না নেওয়া এবং কাজের চাপ নেওয়া হার্টের পক্ষে ক্ষতিকর। তিনি সুপারিশ করেছেন—ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে খালি পেটে পানি পান করুন, প্রয়োজনীয় ওষুধ নিন, প্রোটিনসমৃদ্ধ প্রাতরাশ করুন এবং তারপর চা-কফি পান করুন। এছাড়া সকালের অন্তত ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করা উচিত।
অন্যদিকে হৃদরোগ চিকিৎসক দিলীপ কুমার বলেন, ঘুম থেকে ওঠার পর অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়, যার কারণে রক্তচাপ ও হার্ট রেট বৃদ্ধি পায়। সকালের দিকে প্লেটলেটের ঘনত্ব বেড়ে যাওয়ায় রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও বাড়ে। এটি করোনারি আর্টারি ব্লক হওয়ার ঝুঁকি কয়েক গুণ বৃদ্ধি করে। তাই হার্ট রোগীদের সকালে অতিরিক্ত সতর্ক থাকা জরুরি এবং সকালের রুটিনে শরীরচর্চা ও হাঁটাহাঁটি বাদ দেওয়া যাবে না।
সিএ/এমআর


