আসবাবপত্র তৈরির সবচেয়ে প্রাচীন উপকরণগুলোর একটি হলো কাঠ। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে কাঠের চেয়ার, টেবিল, আলমারি কিংবা ডাইনিং সেট শুধু ব্যবহারযোগ্য সামগ্রী নয়, অনেক পরিবারের জন্য তা ঐতিহ্যের অংশও বটে।
সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে কাঠের আসবাবের সৌন্দর্য আরও ফুটে ওঠে। তবে নিয়মিত যত্ন না নিলে সেই সৌন্দর্য দ্রুত ম্লান হয়ে যেতে পারে। কাঠের আসবাব দীর্ঘদিন টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সঠিক পরিচর্যা, পরিষ্কার করার উপযুক্ত পদ্ধতি এবং কিছু সহজ দৈনন্দিন অভ্যাস।
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “কাঠকে নিজের ত্বকের মতো আচরণ করতে হবে। যেমনভাবে সূর্যের তীব্র আলো বা আর্দ্রতা থেকে ত্বক রক্ষা করা হয়, তেমনি কাঠকেও সেসব প্রভাব থেকে বাঁচাতে হবে।” তার মতে, সূর্যের সরাসরি আলো কাঠের রং ফিকে করে দেয় এবং অনেক সময় প্রলেপ বা ফিনিশিং নষ্ট করে ফেলে। তাই জানালায় পর্দা বা ফিল্টার ব্যবহার করা কিংবা আসবাব এমনভাবে রাখা জরুরি, যাতে সরাসরি আলো না পড়ে।
অতিরিক্ত আর্দ্রতাও কাঠের জন্য ক্ষতিকর। এতে কাঠ ফুলে যাওয়া কিংবা বাঁকা হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই স্যাঁতসেঁতে জায়গা থেকে কাঠের আসবাব দূরে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিদিনের ব্যবহারেও কিছু ছোট অভ্যাস আসবাবের আয়ু বাড়াতে সাহায্য করে। টেবিল বা চেয়ারের পায়ের নিচে ফেল্ট বা প্লাস্টিক প্যাড ব্যবহার করলে মেঝে ও আসবাব দুটিই আঁচড় থেকে রক্ষা পায়। গরম খাবার রাখার আগে মোটা কাপড় বা পটহোল্ডার ব্যবহার করা এবং ঠান্ডা পানীয়ের নিচে কোস্টার রাখলে দাগ পড়ার সম্ভাবনা কমে।
কিছু ছিটে গেলে সঙ্গে সঙ্গে হালকা ভেজা কাপড়ে মুছে শুকিয়ে ফেলাই যথেষ্ট। এতে দাগ বসে যাওয়ার আগেই পরিষ্কার হয়ে যায় এবং কাঠের প্রলেপও ভালো থাকে।
আসবাব পরিষ্কারের ক্ষেত্রে শক্ত রাসায়নিক ব্যবহার না করাই ভালো। প্রায় এক লিটার পানিতে কয়েক ফোঁটা থালা-বাসন ধোয়ার সাবান মিশিয়ে নরম কাপড়ে ভিজিয়ে মুছে নেওয়া বেশিরভাগ সময়ের জন্য যথেষ্ট। জেদি দাগ থাকলে অল্প সাদা ভিনেগার মেশানো যেতে পারে, তবে জোরে ঘষা উচিত নয়। অ্যামোনিয়া বা ব্লিচ ব্যবহার করলে কাঠের ফিনিশিং স্থায়ীভাবে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
ড্রয়ার বা আলমারিতে অতিরিক্ত ভারী জিনিস ভরে রাখা থেকেও বিরত থাকার পরামর্শ দেন অন্দরসজ্জাবিদরা। গুলশান নাসরিন বলেন, “হালকা বা মাঝারি ওজনের জিনিস রাখা নিরাপদ। ভারী জিনিস রাখলে ড্রয়ারের কাঠ ও সংযোগ দুর্বল হয়ে যায়।” পাশাপাশি দরজা বা ড্রয়ার ধীরে বন্ধ করার অভ্যাস কাঠের কাঠামো ভালো রাখতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কাঠের আসবাবে ছোটখাটো দাগ বা সময়ের ছাপ পড়া স্বাভাবিক এবং সেটাই অনেক সময় সৌন্দর্যের অংশ হয়ে ওঠে। সলিড কাঠ সময়ের সঙ্গে প্রাকৃতিকভাবে রঙ বদলায়, যা আসবাবকে আলাদা চরিত্র দেয়। প্রয়োজনে পুনরায় ঘষে ফিনিশিং করিয়ে আগের মতো করাও সম্ভব। তাই লক্ষ্য হওয়া উচিত নিখুঁত নতুন রাখা নয়, বরং সুন্দরভাবে বয়স ধরতে দেওয়া।
সিএ/এমআর


