শীত এলেই ঘরে নেমে আসে কুয়াশা, ঠান্ডা সকাল আর গরম চা কিংবা কফির আরাম। অনেকেই নভেম্বরের শুরু থেকেই বছর শেষের উৎসবের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন। সেই সঙ্গে শীতের উপযোগী করে ঘরের সাজ বদলানোর এটিই সবচেয়ে উপযুক্ত সময়।
শীতের আরামদায়ক ঘর তৈরির প্রথম ধাপ হলো বিছানার সাজ। নরম ও উষ্ণ সুতির চাদর এবং বালিশের কভার ব্যবহার করলে ঘরে আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি হয়। দিনের শেষে বিশ্রামের জন্য এমন নরম কাপড় মানসিক স্বস্তিও এনে দেয়।
অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন বলেন, “সুতির চাদর এবং বালিশের কভারগুলোকে মৃদু রংয়ের করা যায়, যেমন- সাদা, মিষ্টি সবুজ বা নীলের হালকা শেইড, যা ঘরকে শীতের সৌন্দর্য দেয় এবং সহজেই ঘরের অন্যান্য উপকরণের সঙ্গে মানিয়ে যায়।”
ঘরে বড় নরম কম্বল বা থ্রো রাখলে শীতের উষ্ণ পরিবেশ তৈরি হয়। বিশেষ করে বোনা ধাঁচের কভারগুলো ঘরে আরাম এবং উষ্ণতার অনুভূতি যোগ করে। সকালে কিংবা সন্ধ্যায় চা বা কফি নিয়ে বসার সময় এমন কভার বাড়তি স্বাচ্ছন্দ্য দেয়। ঘরের সামগ্রিক শৈলীর সঙ্গে মানানসই করতে বিভিন্ন রং ও নকশার কভার বেছে নেওয়া যেতে পারে।
মেঝে বা চেয়ারের জন্য ছোট নরম গালিচা ব্যবহার করলে ঘরে আরামদায়ক আবহ তৈরি হয়। এগুলো শুধু নরম অনুভূতিই দেয় না, বরং শীতের সময় ঘরে হালকা উষ্ণতা ও বিলাসিতার ছোঁয়াও যোগ করে। চেয়ারের ওপর বা ছোট টেবিলের পাশে সাজিয়ে রাখলে ঘরের সৌন্দর্য আরও ফুটে ওঠে।
শীতকালে দিনের আলো কম থাকায় ঘরে উষ্ণ আলো বা মোমবাতির ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ছোট মোমবাতি কিংবা রিচার্জেবল লাইট ঘরের কোণে বা টেবিলের ওপর রাখলে পরিবেশ হয়ে ওঠে আরও মনোরম।
গুলশান নাসরিন বলেন, “মোমবাতি বা রিচার্জেবল আলোর সেটগুলো ঘরের কোণে রাখা যায়, যা শীতের সন্ধ্যায় একটি স্বাচ্ছন্দ্য এবং উষ্ণতা যোগ করে।” এতে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য ঘরে একটি আরামদায়ক পরিবেশ তৈরি হয়।
শীতের অনুভূতি আনতে ঘরের দেয়ালে আর্ট বা প্রিন্ট যোগ করাও কার্যকর। শীতের দৃশ্য বা প্রকৃতিনির্ভর নকশার আর্ট বসার ঘর, করিডোর কিংবা শয়নঘরে রাখলে ঘরের সাজ আরও সমৃদ্ধ ও নান্দনিক দেখায়।
দরজার সামনে শীতের উপযোগী একটি ম্যাট রাখলেও ঘরের সাজে আলাদা মাত্রা যোগ হয়। খুব বেশি অলঙ্কারিক না হলেও প্রকৃতি বা উদ্ভিদ নকশার ম্যাট শীতের পরিবেশের সঙ্গে মানিয়ে যায় এবং অতিথিদের জন্যও আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি করে।
কফি টেবিলে শীতের সাজের বই বা লাইফস্টাইল বই রাখা যেতে পারে। এগুলো ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি অতিথিদের পড়ার সুযোগও দেয়, যা ঘরের পরিবেশকে আরও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে তোলে।
শীতের সাজে হালকা সাদা, ক্রিম কিংবা হালকা নীল রঙের গৃহসজ্জা ব্যবহার করলে ঘরে উষ্ণতা ও প্রশান্তির আবহ তৈরি হয়। এসব রঙ ঘরকে উজ্জ্বল ও বড় দেখাতে সাহায্য করে, ফলে শীতের সময় ঘরে থাকার অভিজ্ঞতাও হয়ে ওঠে আরও আরামদায়ক।
সিএ/এমআর


