শিশুর মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে ইউনিসেফের ১০ পরামর্শ
ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ ও পারিবারিক দুশ্চিন্তার ভিড়ে অনেক সময়ই সন্তানের মনের খোঁজ রাখা হয়ে ওঠে না। অথচ শৈশব ও কৈশোরে পাওয়া মানসিক যত্নই একটি শিশুকে ভবিষ্যতে আত্মবিশ্বাসী, সুস্থ ও সুখী মানুষ হিসেবে গড়ে তোলে। এই বাস্তবতা সামনে রেখে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) শিশুদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে দিয়েছে ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
ইউনিসেফ বলছে, ভালোবাসা ও যত্নে বেড়ে ওঠা শিশুরা মানসিকভাবে বেশি শক্তিশালী হয় এবং জীবনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সক্ষম হয়ে ওঠে।
ইউনিসেফের ১০টি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ—
১. সন্তানকে বোঝান সে একা নয়
সন্তান যেন জানে—যেকোনো সমস্যা বা অনুভূতি নিয়ে সে আপনার কাছে আসতে পারে। প্রয়োজনে আপনি সবসময় তার পাশে আছেন।
২. বলুন বড়রাও সব সমস্যার সমাধান জানে না
সন্তানকে বুঝিয়ে বলুন, সাহায্য চাওয়া দুর্বলতা নয়—বরং এটি সাহসের পরিচয়।
৩. আবেগ প্রকাশে বাধা দেবেন না
ছেলে বা মেয়ে যেই হোক, কাঁদা, ভয় পাওয়া বা দুশ্চিন্তা করা স্বাভাবিক—এগুলো দমিয়ে রাখবেন না।
৪. অনুভূতি ভাগ করতে উৎসাহ দিন
বিশেষ করে কিশোর বয়সে সন্তানের মন জটিল হয়। চাপ না দিয়ে তাদের কথা বলার সুযোগ দিন।
৫. প্রতিদিন খোঁজ নিন
‘আজ দিনটা কেমন গেল?’—এই একটি প্রশ্নই সন্তানের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব কমাতে পারে।
৬. একা থাকার জায়গা দিন
সবসময় নজরে রাখলেও, সন্তানকে নিজের মতো সময় কাটানোর সুযোগ দিন। এটি মানসিক ভারসাম্য বজায় রাখে।
৭. দুশ্চিন্তা করা স্বাভাবিক—এ কথা জানান
কিশোর বয়সে চাপ বা মন খারাপ হওয়া খুবই স্বাভাবিক—এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
৮. অনুভূতির কথা বলা সাহসের কাজ
নিজের মনের কথা বলা কঠিন হতে পারে, তবে সাহায্য চাইতে শেখাটাই সঠিক পথ।
৯. বিকল্প ভরসার মানুষ খুঁজে দিন
যদি সন্তান আপনার সঙ্গে কথা বলতে না চায়, তাহলে আত্মীয়, শিক্ষক, কোচ বা চিকিৎসকের সহায়তার কথা বলুন।
১০. সমাধান খুঁজতে পাশে থাকুন
সন্তান হতাশ হলে সিদ্ধান্ত চাপিয়ে না দিয়ে তার সঙ্গে বসে সমাধান খোঁজার সঙ্গী হন।
শেষ কথা
শিশুর মানসিক সুস্থতা তার শারীরিক সুস্থতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানের অনুভূতিকে বোঝা, তাকে সময় দেওয়া ও মনোযোগ দিয়ে শোনা—এই ছোট অভ্যাসগুলোই একটি শিশুকে মানসিকভাবে শক্ত ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলে।
সিএ/এসএ


