বাংলা চলচ্চিত্রের দুই প্রজ্বলিত নায়ক মান্না ও শাকিব খানের অবস্থান নিয়ে মন্তব্য করেছেন কিংবদন্তি অভিনেতা সোহেল রানা। সম্প্রতি এক পডকাস্টে তিনি বলেন, “মান্না বেঁচে থাকলে শাকিব এতটা ওপরে উঠতে পারতেন না।” ঢালিউডের এই কিংবদন্তি তারকা এ মন্তব্যে মান্নার প্রভাব এবং শাকিবের বর্তমান অবস্থান উভয়কেই তুলে ধরেছেন।
সোহেল রানা বলেন, মান্নার সময় দর্শকরা শুধু তার কথাই বলতেন। “মান্না যখন যেখানে প্রযোজন সেখানেই তার চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিয়ে কাজ করেছে। যে চরিত্রে লাউড অভিনয় করা সেখানে তাই করেছে, ড্রামা যেমন তাই করেছে। দর্শকরা যখন এক প্যাকেজেই সব পেতে থাকলো তখন মান্নাকে কিন্তু দর্শকরাই একটা অবস্থানে নিয়ে যান। মান্নার সময়কার অন্য যারা তারকা ছিল তার কাছাকাছি কিন্তু ছিল না।”
তিনি আরও বলেন, মান্না তার নিজস্ব ভাষা ও স্টাইল ব্যবহার করেই জনপ্রিয় হয়েছিল। “টাঙাইলের ভাষায় সংলাপ বলেই কিন্তু একটি জায়গা তৈরি করলো। দর্শকরা তার সেই ভাষাকে গ্রহণ করলো। আমি যদি শুদ্ধ ভাষায় কথা বলি বা বরিশালের ভাষায় বলি, সেটা কিন্তু পারবো না। কিন্তু মান্না তার নিজস্ব স্টাইল, ভাষা ব্যবহার করেই জনপ্রিয় হয়েছিল।”
নব্বই দশক থেকে দুই হাজার দশকের প্রথম দিকে মান্না টানা বক্স অফিস মাতিয়েছেন। তার মৃত্যুর পরপরই চলচ্চিত্রে একক আধিপত্য গড়ে তুলেছেন শাকিব খান। দীর্ঘ দেড় দশক ধরে বাণিজ্যিক সিনেমার প্রধান তারকা হিসেবে শীর্ষে রয়েছেন তিনি।
চলচ্চিত্র বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, সোহেল রানার মন্তব্য শুধুই ব্যক্তিগত ধারণা নয়। এতে ইন্ডাস্ট্রির পরিবর্তন, কনটেন্ট সংকট এবং দর্শক রুচির পরিবর্তনের বহুমুখী বাস্তবতা প্রতিফলিত হয়েছে। অনেকের মতে, মান্না থাকলেও শাকিব নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তৈরি করতেন। অন্য পক্ষ যুক্তি দেখাচ্ছে, মান্নার জনপ্রিয়তা ও প্রযোজন ক্ষমতা থাকলে ইন্ডাস্ট্রির ভারসাম্য অন্য রকম হতো।
যে বিতর্কই হোক, চলচ্চিত্রপ্রেমীদের আবেগী প্রতিক্রিয়া বেশ স্পষ্ট। মান্নার নামই আসলেই দর্শকের মনে দোলা লাগে, আর শাকিবকে ঘিরে থাকে প্রত্যাশা ও সমালোচনার মিশেল। দুই তারকাই তাদের সময়ে ইন্ডাস্ট্রিকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন।
দর্শক-সমালোচকদের এই তুলনা এখনও সমান তালে চলছেই; দেশের বাণিজ্যিক চলচ্চিত্রে মান্না ও শাকিব খানের ওজন এখনো সমানভাবে আলোচনায়।
সিএ/এসএ


