হাঙ্গেরির প্রভাবশালী চলচ্চিত্রকার বেলা তার আর নেই। তাঁর বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। মঙ্গলবার (৭ ডিসেম্বর) সকালে ইউরোপীয় চলচ্চিত্র একাডেমি তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ভুগতে থাকা এক গুরুতর অসুস্থতার পর আজই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। বেলা তার ‘ড্যামনেশন’ ও ‘স্যাতানতাঙ্গো’র মতো বিষণ্ন ও চিন্তাশীল চলচ্চিত্র নির্মাণের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে বিশেষ পরিচিতি লাভ করেছিলেন।
ইউরোপীয় চলচ্চিত্র একাডেমি প্রকাশিত এক বিবৃতিতে জানায়, আমরা একজন অসাধারণ নির্মাতাকে হারালাম। যার শক্তিশালী রাজনৈতিক কণ্ঠস্বর আমাদের ভাবিয়েছে। তিনি শুধু সহকর্মীদের কাছেই গভীরভাবে সম্মানিত ছিলেন না, বিশ্বজুড়ে দর্শকদের কাছেও ছিলেন সমাদৃত। একই বিবৃতিতে আরও জানানো হয়, শোকাহত পরিবার সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের কাছে এই কঠিন সময়ে তাদের অবস্থান বোঝার অনুরোধ জানিয়েছে। পরিবার এখনই কোনো বক্তব্য দেবে না।
বেলা তার তথাকথিত স্লো সিনেমা আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচিত। এই চলচ্চিত্রধারার বৈশিষ্ট্য ছিল সাদা-কালো চিত্রগ্রহণ, দীর্ঘ ও অবিচ্ছিন্ন শট, অত্যন্ত সীমিত সংলাপ এবং প্রচলিত কাহিনিনির্ভর গল্প বলার কাঠামো প্রত্যাখ্যান। তাঁর ছবিতে পূর্ব ইউরোপের দৈনন্দিন জীবনের নিঃসঙ্গতা, নিরানন্দ বাস্তবতা ও সামাজিক সংকট গভীরভাবে উঠে এসেছে।
এই চলচ্চিত্রভাষার সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হিসেবে ধরা হয় বেলা তারের ১৯৯৪ সালের চলচ্চিত্র স্যাতানতাঙ্গো। সাড়ে সাত ঘণ্টা দৈর্ঘ্যের এই ছবিতে কমিউনিজম পতনের পর একটি ছোট হাঙ্গেরীয় গ্রামের মানুষের টিকে থাকার সংগ্রামের গল্প তুলে ধরা হয়। দৈর্ঘ্য ও ধীরগতির কারণে ছবিটি সহজে দর্শকপ্রিয় না হলেও সমালোচকদের কাছে এটি বেলা তারের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কাজ হিসেবে স্বীকৃত।
বিশ্ব চলচ্চিত্র ইতিহাসে স্যাতানতাঙ্গো এক অনন্য অবস্থান তৈরি করে নিয়েছে বলে মনে করেন চলচ্চিত্রবোদ্ধারা। সময়, সমাজ ও মানুষের অন্তর্গত সংকটকে ভিন্ন ধারায় উপস্থাপনের কারণে বেলা তারকে আধুনিক বিশ্ব চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রভাবশালী নির্মাতা হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
সূত্র:রেডিও ফ্রান্স
সিএ/এএ


