আইনি জটিলতায় স্থগিত হওয়া ২০২৫ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা আগামী এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে আয়োজনের কথা জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
গত বছরের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণিতে থাকায়, নিজেদের নিয়মিত পড়াশোনার পাশাপাশি আবার পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষার প্রস্তুতিও নিতে হবে। ফলে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চাপ তৈরি হয়েছে।
পরীক্ষার কাঠামো:
মোট ৫টি বিষয়, ৪০০ নম্বরের পরীক্ষা
বাংলা, ইংরেজি, গণিতে ১০০ নম্বর করে
প্রাথমিক বিজ্ঞান ও বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় ৫০ নম্বর করে বরাদ্দ
শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, এই পরীক্ষায় কিন্ডারগার্টেনের শিক্ষার্থীরাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৃত্তি পরীক্ষা কার্যত শিক্ষায় বৈষম্য বাড়াতে পারে। এর ফলে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা আরও পিছিয়ে পড়তে পারে এবং কোচিং-প্রাইভেট পড়ার ওপর নির্ভরতা বেড়ে অভিভাবকদের আর্থিক চাপ বাড়তে পারে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান জানান, এপ্রিলের পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা প্রায় এক মাস সময় পাবেন, ফলে একটু বাড়তি পরিশ্রম করলে দুটি পরীক্ষাতেই ভালো ফল করা সম্ভব। তিনি বলেন, “পরীক্ষা না হওয়ার চেয়ে পরীক্ষা হওয়াই ভালো।”
অভিভাবকদের উদ্বেগ:
মানাফের অভিভাবক: পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণির পাঠ্য বিষয় আলাদা। দুই শ্রেণির বিষয় একসঙ্গে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কঠিন হতে পারে।
রুদ্রের অভিভাবক: শিক্ষাবর্ষের এ সময়ে পরীক্ষা নেওয়ার ফলে অতিরিক্ত মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে।
শিক্ষার্থীদের মত:
সাদিয়া খাতুন: পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি ও ষষ্ঠ শ্রেণির প্রথম সাময়িক পরীক্ষার সিলেবাস ও ধরন সম্পূর্ণ আলাদা। একসঙ্গে প্রস্তুতি নেওয়া কঠিন।
পরীক্ষার তারিখ ও প্রস্তুতির এই সমন্বয় শিক্ষার্থীদের উপর চাপ সৃষ্টি করলেও মন্ত্রণালয় আশা করছে, পরিকল্পিত প্রস্তুতির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা দুটি পরীক্ষাতেই ভালো করতে পারবে।
সিএ/এসএ


