ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যাগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজি (আইইউবিএটি) আজ ৩৫ বছরে পা দিয়েছে। আগামীকাল শুক্রবার বিশ্ববিদ্যালয়টি ৩৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করবে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয়টি জানিয়েছে, দীর্ঘ এই সময়ে আইইউবিএটি শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নয়, বরং বাংলাদেশে বেসরকারি উচ্চশিক্ষার পথিকৃৎ ও অনুকরণীয় মডেল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। ১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও আইবিএর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ড. এম আলিমউল্যা মিয়ান এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন। লক্ষ্য ছিল দেশের প্রতিটি গ্রাম থেকে একজন করে পেশাজীবী গ্রাজুয়েট তৈরি করা এবং আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা সাধারণ শিক্ষার্থীদের নাগালের মধ্যে নিয়ে আসা।
আইইউবিএটির চেয়ারম্যান জুবের আলিম এবং উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুর রব ৩৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, অ্যালামনাই ও শুভানুধ্যায়ীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তাদের বার্তায় বলা হয়েছে, এই অর্জন সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার ফল।
রাজধানীর উত্তরায় সবুজে ঘেরা প্রায় ২০ বিঘা জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত আইইউবিএটি দেশের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অনন্য উদাহরণ। পরিকল্পিত ক্যাম্পাস, খোলামেলা পরিবেশ ও আধুনিক অবকাঠামো শিক্ষার্থীদের জন্য আদর্শ শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করেছে।
আইইউবিএটির অবদান বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। দেশের প্রথম বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে বিবিএ, হোটেল ম্যানেজমেন্ট ও বেসরকারিভাবে অ্যাগ্রিকালচার, নার্সিং ও মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোগ্রাম চালু করে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বর্তমানে ছয়টি অনুষদের অধীনে ১৪টি বিভাগে দেশি-বিদেশি হাজার হাজার শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছেন। আধুনিক পাঠ্যক্রম, অভিজ্ঞ শিক্ষকবৃন্দ ও ব্যবহারিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দেওয়ায় এখানকার স্নাতকেরা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দক্ষতা ও সাফল্যের সঙ্গে কাজ করছেন।
গবেষণা ও র্যাঙ্কিংয়ে আইইউবিএটির অবস্থান শক্তিশালী। ২০২৫ সালে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে গবেষণায় আইইউবিএটি পঞ্চম স্থানে ছিল। কিউএস ও টাইমস হায়ার এডুকেশন-এর মতো আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিংয়ে উপস্থিতি বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা খাতে এর গুরুত্ব আরও দৃঢ় করেছে।
সামাজিক দায়বদ্ধতার ক্ষেত্রেও আইইউবিএটি প্রশংসনীয় ভূমিকা রাখছে। আর্থিক সচ্ছলতার অভাবে যাতে মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত মেধাবৃত্তি প্রদান করা হয়। শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি ট্রান্সপোর্ট সুবিধাও রয়েছে, যা তাদের পড়াশোনাকে আরও সহজ ও সাশ্রয়ী করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ৩৫ বছরের এই গৌরবময় পথচলায় আইইউবিএটি প্রমাণ করেছে যে দূরদর্শী নেতৃত্ব, মানসম্মত শিক্ষা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা একসাথে থাকলে একটি বিশ্ববিদ্যালয় জাতির ভবিষ্যৎ নির্মাণে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আইইউবিএটি নতুন প্রত্যয়ে আগামীর পথচলায় আরও উচ্চ শিখরে পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
সিএ/এসএ


