শহীদ ওসমান হাদির স্মরণে এবং তাঁর হত্যার বিচারের দাবিতে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) গ্রাফিতি অঙ্কন ও দেয়াল লিখন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংগঠন বাকৃবি সলিডারিটি সোসাইটির উদ্যোগে এ আয়োজন করা হয়।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) অনুষ্ঠিত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মো শহীদুল হক। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শিক্ষক কেন্দ্রের দেয়াল ও কে আর মার্কেটের পশুপালন অনুষদ সংলগ্ন দেয়ালে শহীদ ওসমান বিন হাদির গ্রাফিতি অঙ্কন করা হয়। শিক্ষার্থীরা গ্রাফিতির পাশাপাশি বিভিন্ন স্লোগানও লিখেছেন। উল্লেখযোগ্য স্লোগানগুলো হলো- ‘জান দেবো কিন্তু জুলাই দেবো না’, ‘দাসত্বই যে জমিনের নিশ্চল নিয়তি, লড়াই সেখানে সর্বোত্তম ইবাদত’, ‘ইনকিলাব জিন্দাবাদ’।
গ্রাফিতি অঙ্কন প্রসঙ্গে বাকৃবি সলিডারিটি সোসাইটির আহ্বায়ক ছাব্বির হোসেন রিজন বলেন, ‘হাদি ভাইকে কেন্দ্র করে গ্রাফিতি প্রতিবাদের ভাষা, প্রেরণার বার্তা। হাদি ভাই আমাদের কাছে প্রতীক। তিনি অন্যায়ের বিরুদ্ধে নির্ভীক অবস্থান, সত্য উচ্চারণের সাহস এবং ক্যাম্পাসে ন্যায়ের পক্ষে দাঁড়ানোর মানসিকতার নাম। এই গ্রাফিতির মূল উদ্দেশ্য কোনো ব্যক্তিকে মহিমান্বিত করা নয় বরং একটি আদর্শ, একটি অবস্থান এবং একটি সংগ্রামী চেতনার প্রতিনিধিত্ব করা।’
তিনি আরও বলেন, ‘একজন সচেতন শিক্ষার্থী কেবল পরীক্ষার খাতায় সীমাবদ্ধ থাকে না। সে সময়ের অন্যায়কে প্রশ্ন করে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলে। নীরবতা কখনো নিরপেক্ষতা নয়। অন্যায় দেখেও চুপ থাকা মানেই অন্যায়ের পক্ষ নেওয়া। আপনার আমার কলম, কণ্ঠ, রঙ সব হোক অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর হাতিয়ার।’
এর আগে গত ২৭ ডিসেম্বর বাকৃবিতে ঢাবি ক ইউনিটে পরীক্ষা দিতে আসা পরীক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে শহীদ হাদি ভাইয়ের বিচার ও দোয়ার জন্য মুড়ি-বাতাসা বিতরণ করা হয়। শিক্ষার্থীরা জানান, ‘ভারতীয় আধিপত্য বিরোধী আন্দোলনে শহীদ ওসমান হাদি ভাই এক ইনসাফের রাষ্ট্র গড়তে তিনি তার নির্বাচনী প্রচারণা চালাতেন মুড়ি বাতাসা দিয়ে। হাদি ভাইয়ের দেখানো পথ অবলম্বনে ক্যাম্পাসে আমাদের এই আয়োজন করেছিলাম। এই উদ্যোগকে সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই। আমরা চাই বাংলার প্রতিটি মানুষ হাদিকে ধারণ করুক।’
সূত্র: শিক্ষার্থীরা, বাকৃবি সলিডারিটি সোসাইটি
সিএ/এএ


