বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনা ঘটেছে ২০১৬ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি। যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউইয়র্ক থেকে প্রায় আট কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। দশ বছর পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এবং অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এখনও অভিযোগপত্র আদালতে জমা দিতে পারেনি।
ঘটনার কয়েক মাস পর মামলা দাখিল করা হলেও এরপর প্রক্রিয়াটি স্থবির থাকে। আওয়ামী লীগ শাসনামলের মধ্যভাগে এই মামলার কুলকিনারা হয়নি এবং পরবর্তী সরকারের সময়ও তা আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেনি। সিআইডির সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. শাহ আলম জানিয়েছেন, রিজার্ভ চুরির সময় বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্ভারগুলোতে তিন-চারটি কম্পিউটারের মাধ্যমে লেনদেন হতো। চুরির সুযোগ সীমিত ছিল এবং যারা সহায়তা করেছে, তারা বিশেষজ্ঞ ছিলেন।
২০২৪ সালে সিআইডির প্রতিবেদনে উঠে আসে, চুরির ঘটনায় বাংলাদেশ ব্যাংকের ১২ জন কর্মকর্তার নাম সংশ্লিষ্ট। সুইফট সার্ভার সংবেদনশীল ব্যবস্থায় থাকা সত্ত্বেও তৎকালীন গভর্নর আতিউর রহমান আন্তব্যাংকিং লেনদেনের জন্য আরটিজিএসের সাথে সংযোগ অনুমোদন দেন। তদন্তে উঠে আসে, চুরি করা অর্থের সুবিধাভোগীর মধ্যে ওই সার্ভার সংযুক্ত উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদেরও নাম রয়েছে।
শাহ আলম বলেন, ‘যখন প্রশ্ন উঠেছিল কেন সুরক্ষিত সিস্টেমকে অরক্ষিত রাখার সুযোগ দেওয়া হলো, তারা অজুহাত দিয়েছিল, যা আমাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়নি।’ তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের নিজস্ব অবহেলা এবং উদাসীনতার কারণে এই ঘটনা ঘটতে পারে এবং এটি কোনো ষড়যন্ত্রের অংশও হতে পারে।
পরবর্তী তিন বছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বোর্ড মিটিংয়ে এই রিজার্ভ চুরি বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। অপরাধ কার্যক্রমের বিষয়টি পাঁচটি দেশে সংযুক্ত থাকায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোও যথেষ্ট উদাসীন ছিল। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক ও অর্থনীতিবিদ ড. জামালউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘ফরাস উদ্দিনের কমিটি প্রতিবেদন দিয়েছিল, কিন্তু ফলোআপ হয়নি এবং প্রকাশও করা হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি।’
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে ফিলিপিন্সের আরসিবিসি ব্যাংকের একপাক্ষিক অর্থ চুরি মামলায় ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার বাজেয়াপ্তের নির্দেশ দেয় ঢাকার একটি বিশেষ আদালত। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে এখনও আশানুরূপ প্রগতি নেই। অভিযোগপত্র দাখিলের জন্য সর্বশেষ ১৮ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য ছিল, কিন্তু এটি ৯২ বার পিছিয়ে ৯ এপ্রিল নির্ধারণ করা হয়েছে।
সূত্র: বাংলাদেশ ব্যাংক, সিআইডি
সিএ/এসএ


