দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলায় সরিষার চাষ দিন দিন বাড়ছে। পতিত জমি এখন বোরো ধানের পরিপ্রেক্ষিতে তিন ফসলি জমিতে পরিণত হচ্ছে। ভালো ফলনের পাশাপাশি এবার ন্যায্য দাম পাওয়ার আশা করছেন চাষিরা। পাশাপাশি ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমবে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্টরা।
সরজমিনে দেখা গেছে, হাকিমপুরের অধিকাংশ মাঠ এখন সরিষার ফুলে পরিপূর্ণ। সবুজের মাঝে হলুদ সমারোহ প্রকৃতিকে সাজিয়েছে অপরূপভাবে। চারিদিক মধুর মৌ-মৌ গন্ধে মুখরিত হয়ে উঠেছে। আগে এখানে আমন ধান কেটে বোরো রোপণের সময় অধিকাংশ জমি পড়ে থাকত। কিন্তু সরকারিভাবে বিনামূল্যে সরিষার বীজ ও সার বিতরণের পর থেকে পতিত জমিগুলো চাষের জন্য ব্যবহার হচ্ছে।
কৃষকরা জানান, বিঘা প্রতি সরিষা চাষে খরচ পড়ছে প্রায় ৫ হাজার টাকা। খরচ বাদ দিয়ে লাভ হচ্ছে প্রায় ১০ হাজার টাকা। সরিষা চাষের ফলে বোরো আবাদে সারও বাঁচে। কম খরচে লাভজনক হওয়ায় পতিত জমিতে সরিষা চাষে কৃষকেরা আগ্রহী।
চাষি সুমন বলেন, সরিষা চাষ করলে পরিবারের ভোজ্যতেলের চাহিদা মেটানো যায় এবং খৈল বা গোখাদ্য হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। সরিষার গাছ জ্বালানিতেও কাজে লাগে। বিঘা প্রতি চাষে খরচ ৫ হাজার টাকা, আর ৭-৮ মণ সরিষা উৎপাদন হয়। এতে খরচ বাদ দিয়ে লাভ প্রায় ১০ হাজার টাকা।
হাকিমপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরজেনা বেগম জানান, সরিষার আবাদ দিন দিন বাড়ছে। গতবার ভালো দাম পাওয়ায় এবার চাষিরা আরও উৎসাহী। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে ভালো ফলন ও ভালো দাম পেয়ে কৃষকরা লাভবান হবেন। ভোজ্যতেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে সরিষার চাষাবাদ বাড়ানোর জন্য কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরে ১ হাজার ৪০০ জন কৃষকের মধ্যে বিনামূল্যে সার ও বীজ বিতরণ করা হয়েছে। গত বছরে উপজেলায় ২ হাজার ৭৩০ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ হয়েছিল, এবার তা বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৯০০ হেক্টর।
সিএ/এসএ


