বছরের শেষের দিকে চায়ের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে মৌলভীবাজারের সব চা বাগানে এখন প্রুনিং কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চা গাছকে দীর্ঘস্থায়ী সতেজ ও সক্রিয় রাখার জন্য বিভিন্ন ছাঁটাই পদ্ধতিতে গাছের মাথা ছাঁটছেন শ্রমিকরা। সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত চা শ্রমিকরা প্রুনিংয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল উপজেলার বাগানগুলোতে সরেজমিনে দেখা গেছে, নারী-পুরুষ শ্রমিকরা এক সঙ্গে প্রুনিংয়ে নিয়োজিত। শ্রীমঙ্গলের এক শ্রমিক সর্দার উজ্জ্বল জানিয়েছেন, প্রতি বছর মার্চ থেকে টানা ৮–৯ মাস চা উৎপাদন চললেও ডিসেম্বর মাসে উৎপাদন কমে আসে। নতুন বছরের শুরুতে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখতে জানুয়ারি মাস জুড়ে বাগানগুলোতে আধুনিক পদ্ধতির প্রুনিং কার্যক্রম চলে। গাছের বয়স, মাটির উর্বরতা ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনায় আলাদা আলাদা সেকশনে ধাপে ধাপে প্রুনিং করা হয়।
চা শ্রমিক রাজু হাজরা বলেন, সবচেয়ে প্রচলিত প্রুনিং পদ্ধতি হলো কলার প্রুনিং (মধ্যম ছাঁটাই), লাইট প্রুনিং (হালকা ছাঁটাই), লো প্রুনিং (নিচু ছাঁটাই) এবং ক্লিন প্রুনিং (পরিষ্কার ছাঁটাই)। এ ছাড়া একটি নতুন পদ্ধতি ‘ব্রিদার’ বা ‘শ্বাস নেয়া’ প্রুনিং, যেখানে গাছের একটি ডাল রেখে পুরো গাছ ছাঁটানো হয়।
প্রুনিং শেষ হলে গাছের গোড়ার আগাছা পরিষ্কার করা এবং সার প্রয়োগ করা হয়। পরবর্তী সময়ে বৃষ্টির পানি পেয়ে গাছ সতেজ হয়ে উঠবে এবং কচি পাতা জন্মাবে। নতুন পাতার সমপরিমাণ লম্বা হয়ে গেলে মার্চ বা এপ্রিলে শ্রমিকরা পাতা উত্তোলন শুরু করবেন। শ্রীমঙ্গল এম আর খান চা বাগানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী জানিয়েছেন, তাদের বাগানে ডিসেম্বরেই প্রুনিং কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
প্রবীণ চা বিশেষজ্ঞ ও বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন, সিলেট শাখার চেয়ারম্যান জিএম শিবলী জানান, চায়ের উৎপাদন ক্ষমতা বাড়াতে ডিসেম্বর থেকেই মূলত প্রুনিং কার্যক্রম শুরু হয়। প্রতিটি বাগানে উৎপাদন ও পাতার গুণমান বৃদ্ধির জন্য প্রায় অর্ধেক অংশ প্রুনিং করা হয়। বাংলাদেশ চা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ড. মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, একাধিক পদ্ধতির প্রুনিং গাছের সুস্থতা ও চায়ের ফলন বাড়ানোর কার্যকর উপায়। মৌলভীবাজার জেলার ছোট বড় ৯৩টি চা বাগানেই জানুয়ারি মাস জুড়ে এই প্রুনিং কার্যক্রম চলবে।
সিএ/এসএ


