২০২৬ সালের জন্য সরকার পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং পণ্যকে ‘প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার’ বা বর্ষ পণ্য হিসেবে ঘোষণা করেছে।
এই ঘোষণার উদ্দেশ্য হলো পণ্যের খাতকে আন্তর্জাতিক বাজারে আরও এগিয়ে নেওয়া এবং উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করা। তবে এই খাতের অভ্যন্তরীণ বা বৈশ্বিক বাজারের সঠিক পরিসংখ্যান স্পষ্টভাবে সরকারি-বেসরকারি কোনো সংস্থা থেকে পাওয়া যায়নি।
ইপিবির পরিসংখ্যানে দেখা যায়, পেপার অ্যান্ড পেপার প্রোডাক্টসের রফতানি আয় ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২২ কোটি ৯৪ লাখ ডলার থেকে ক্রমবর্ধমান হয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দাঁড়িয়েছে ২৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলারে। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে এ খাতের রফতানি আয় হয়েছে ১৩ কোটি ৬৫ লাখ ডলার।
বিশ্ববাজারে গার্মেন্ট অ্যাক্সেসরিজ ও প্যাকেজিং পণ্যের আকার ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। তবে বিজিএপিএমইএ’র হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশি পণ্যের রফতানি আয় প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ মিলিয়ে মোট সাড়ে ৭ বিলিয়ন ডলারের কম। এ বিশাল সম্ভাবনা ধরতে উদ্যোক্তারা চাইছেন বর্ষপণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া পণ্যের জন্য সরাসরি রফতানিতে প্রণোদনা এবং নীতি-সহায়তা।
বাংলাদেশ গার্মেন্টস এক্সেসরিজ অ্যান্ড প্যাকেজিং ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএপিএমইএ) সভাপতি মো. শাহরিয়ার বলেন, “যদি প্যাকেজিং ইনস্টিটিউট, কম সুদের ঋণ, বিশ্বের ক্রেতা-বিক্রেতা ও উৎপাদনকারীদের মধ্যে সমন্বয় করা যায় এবং নীতি সহায়তা পাওয়া যায়, তাহলে এই সেক্টর ভালো করতে পারবে।”
ড. মাহফুজ কবীর, গবেষণা পরিচালক, বিএআইআইএস বলেন, “যে সমস্ত পণ্যকে পরপর তিন-চার বছর বর্ষপণ্য হিসেবে ঘোষণা করা হবে, প্রত্যেকটির জন্য ডেডিকেটেড ফিসকেল পলিসি থাকা প্রয়োজন। সহজ শর্তে কম সুদে ঋণের ব্যবস্থা করার জন্য একটি তহবিল গড়ে তোলা গেলে খাতটি আরও দ্রুত এগোবে।”
এবারের বর্ষপণ্য সম্পর্কিত সরকারি পরিকল্পনা জানতে ইপিবিতে কয়েক দফা যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর মেলেনি। উদ্যোক্তারা আশা করছেন, বর্ষপণ্যের স্বীকৃতির মাধ্যমে নীতি ও আর্থিক সহায়তা পেলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের পেপার প্যাকেজিং খাত আরও শক্তিশালী হবে।
সিএ/এসএ


