সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, সরকারে থাকা অবস্থায় প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের ওপর হামলা ঠেকাতে না পারা তাদের জন্য একটি বড় ব্যর্থতা। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে প্রথম আলোর অগ্নিদগ্ধ ভবনে আয়োজিত বিশেষ প্রদর্শনী ‘আলো’ ঘুরে দেখার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
আসিফ নজরুল বলেন, ‘সেই রাতের ঘটনা মনে পড়ে। ওই রাতে প্রায় ৫০-৬০ বার প্রথম আলোর সঙ্গে ফোনে কথা বলেছি। উৎকণ্ঠা নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করেছি। ঠিক বোঝানো যাবে না যে কী রকম অসহায় অবস্থায় একটি সরকারের লোক হতে পারে। অবশ্যই আমরা এটা ঠেকাতে পারিনি। এটি আমাদের অনেক বড় ব্যর্থতা। কিন্তু প্রথম আলোর মানুষজন জানে আমাদের কী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা ছিল।’
তিনি প্রথম আলোর সঙ্গে স্মৃতি ভাগ করে বলেন, ‘প্রথমা থেকে আমার অনেক বই বের হয়েছে। আমি এখানে প্রায়ই আসতাম। এখানে ইন্টারভিউ দিতাম বই প্রমোশনের জন্য। দানবীয় শক্তির উন্মত্ততা, নিষ্ঠুরতা কত ভয়াবহ হতে পারে, সেটা অনেক দিন ভেবেছি। কিন্তু আজকে এসে দেখলাম আমার সমস্ত ভাবনাকেও ছাড়িয়ে গেছে। মানুষ কত ভয়াবহ এবং জঘন্য হতে পারে। কত ডিভাস্টেটিং (বীভৎস) হতে পারে, সেটির একটি জীবন্ত উদাহরণ হয়ে আছে প্রথম আলোর এই ভবন।’
আসিফ নজরুল প্রদর্শনীর একটি বড় বার্তার ওপরও আলোকপাত করেন। তিনি বলেন, ‘এত উন্মত্ত শক্তির ক্রোধের পরও, ধ্বংসযজ্ঞের পরও প্রথম আলো যেভাবে ঘুরিয়ে দাঁড়িয়েছে, এই ধ্বংসের জায়গাটাকে শিল্প ও প্রতিবাদের পর্যায়ে নিয়ে এসেছে। বার্তা হলো, কোনো কিছুর পরও আমরা হেরে যেতে রাজি নই। ধ্বংসযজ্ঞের শক্তির কাছে সৃষ্টিশীল মানুষের পরাজয় কখনও হবে না।’
সাবেক আইন উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘এই নারকীয় ধ্বংসযজ্ঞ প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের জন্য এবং বাংলাদেশের জন্যও অনেক বড় বিয়োগান্ত ঘটনা। হয়তো এটির মাধ্যমে জনগণ সচেতন হয়েছে যে এই ধ্বংস সৃষ্টিকারীরা, উগ্রবাদীরা কত ভয়াবহ, উন্মত্ত ও কাণ্ডজ্ঞানহীন হতে পারে। আমি প্রথম আলোর সঙ্গে সব সময় থাকব।’
সিএ/এমই


