বাগেরহাট জেলায় সংসদীয় চারটি আসনের সবকটিতেই বিএনপির ‘বিদ্রোহী’ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট দিচ্ছেন বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য এম এ এইচ সেলিম। নির্বাচনী আইন অনুসারে তাঁরা স্বতন্ত্র প্রার্থী হলেও স্থানীয় ভোটাররা সেলিমকে দলের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে চেনেন। এই পরিস্থিতি জেলা বিএনপির জন্য চাপের সৃষ্টি করেছে।
মৌলিকভাবে সেলিম বাগেরহাট–১ (চিতলমারী–ফকিরহাট–মোল্লাহাট) ও বাগেরহাট–২ (সদর-কচুয়া) আসনে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন। বাগেরহাট–৩ (মোংলা ও রামপাল) আসনে তাঁর কার্যক্রম সীমিত। এছাড়া বাগেরহাট–১ ও ২ আসনে বিএনপির প্রার্থীদের কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেছেন। অন্য বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে বাগেরহাট–১ আসনে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাছুদ রানা এবং বাগেরহাট–৪ (মোরেলগঞ্জ–শরণখোলা) আসনে জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কাজী খায়রুজ্জামান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বাগেরহাট–২ আসনে ত্রিমুখী লড়াই চলছে। বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন, জামায়াতের প্রার্থী শেখ মনজুরুল হক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী এম এ এইচ সেলিম। এই আসনে মোট ভোটার প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার। এম এ এইচ সেলিম জানিয়েছেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য তিনি ভোটে দাঁড়িয়েছেন এবং তারা তারকা ভোটার হিসেবে তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন। বিএনপির প্রার্থী জাকির হোসেন অভিযোগ করেছেন, সেলিম জেলার তিনটি আসনে স্বতন্ত্র ভোটে অংশ নিয়ে জামায়াতকে সুবিধা দিচ্ছেন।
বাগেরহাট–১ আসনে বিএনপি সংখ্যালঘু ভোটারদের মনোযোগ আকৃষ্ট করতে কপিল কৃষ্ণ মণ্ডলকে প্রার্থী করেছে। তিনি মতুয়া বহুজন সমাজ ঐক্য জোটের সাধারণ সম্পাদক এবং বিশ্ব হিন্দু পরিষদের বাংলাদেশ চ্যাপটারের মহাসচিব। এছাড়া সেলিম ও মাছুদ রানার স্বতন্ত্র প্রার্থীর কারণে দলের ভোট বিভক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বাগেরহাট–৪ আসনে বিএনপি মনোনীত সোম নাথ দে সংখ্যালঘু ভোট টানার জন্য প্রার্থী হয়েছেন। তবে জেলা নেতা কাজী খায়রুজ্জামান স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে বিএনপির অবস্থান কিছুটা দুর্বল করেছেন। এই আসনের জামায়াতের প্রার্থী আবদুল আলীম। মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮০ হাজারের বেশি।
স্থানীয় রাজনীতিক ও ভোটাররা মনে করছেন, বিএনপির একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থীর কারণে দলটি আওয়ামী লীগের সমর্থকদের ভোট টানার চেষ্টা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে বিএনপি, জামায়াত ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কার্যক্রমে সমঝোতা ও দ্বিধা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিএনপির বিভেদ প্রকাশ্য হওয়ায় নির্বাচনের ফলাফলের ওপর এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
সিএ/এমই


