সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য, মামলা বাণিজ্য ও প্রতারণাসহ একাধিক অভিযোগে গাজীপুরে এক তরুণীকে গ্রেপ্তার করেছে যৌথবাহিনী। গ্রেপ্তার হওয়া তরুণী তাহরিমা জান্নাত সুরভী (২১) গত বছরের জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে নিজেকে পরিচয় দিতেন।
টঙ্গী পূর্ব থানার গোপালপুর টেকপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন টঙ্গী পূর্ব থানার ওসি মেহেদী হাসান। গ্রেপ্তারের পর পুলিশ জানিয়েছে, তাহরিমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, তাহরিমার চাঁদাবাজি সংক্রান্ত বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের জিএস সালাউদ্দিন আম্মার। এক ফেসবুক পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, এই মেয়েটার বিরুদ্ধে ৫০ কোটি টাকার চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হয়েছে, যা শুনে তিনি সন্দিহান হয়েছেন। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, এই দেশের বাস্তবতায় যেখানে হাজার হাজার কোটি টাকা লুট হয়, সেখানে একজন জুলাইয়ের রাজপথে থাকা তরুণীর বিরুদ্ধে হঠাৎ করে এমন অঙ্ক আসলেই কি সত্যিই বিচারিক অনুসন্ধানের ফল, নাকি এটি রাজনৈতিক ভীতি সৃষ্টির জন্য exaggeration।
আম্মার আরও বলেন, প্রশ্ন হলো ৫০ কোটি টাকার লেনদেনের প্রমাণ কোথায়? ব্যাংক ট্রান্সফার, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল ট্রেইল, সাক্ষী, নাকি শুধুই অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে জেলে পাঠানো হয়েছে? তিনি উল্লেখ করেন, একদিকে চাঁদাবাজির অভিযোগ বলা হচ্ছে, অন্যদিকে পত্রিকায় লেখা হয়েছে সেনাবাহিনী প্রধানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য করেছে। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, আসল অভিযোগ কি চাঁদাবাজি নাকি মতপ্রকাশ?
রাকসু জিএস বলেন, যদি চাঁদাবাজি সত্যি হয়, তাহলে রাষ্ট্রবিরোধী মন্তব্য টেনে আনার প্রয়োজন কেন? আর যদি বক্তব্যই অপরাধ হয়, তাহলে চাঁদাবাজির মতো ভয়ংকর লেবেল দেওয়া কেন? তিনি বলেন, এটি কি আইনি প্রক্রিয়া নাকি ব্যক্তিগত কেরেক্টার অ্যাসাসিনেশন? তিনি আরও সতর্ক করেছেন, আজ তাহরিমা জেলে, কাল আমরা, পরশু আপনি—এভাবেই অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেপ্তার হবে মানুষ।
আম্মার বলেন, প্রমাণ দেখানোর প্রয়োজন নেই, কারণ আমরা আগে থেকেই চুপ থাকতে শিখেছি। এই দেশে অভিযোগই সাজা, গ্রেপ্তারই প্রমাণ আর সংবাদ শিরোনামই রায়। তিনি যুক্ত করেছেন, প্রশ্ন তোলা অপরাধ নয়, নীরবতাই অপরাধ। আজ যদি আমরা না বলি প্রমাণ দেখাও, মামলার অবস্থা কী, চার্জশিটে কী লেখা আছে, বিচার কোথায়—তাহলে আগামীকাল যখন কাউকে তুলে নেওয়া হবে, তখন জনগণ শুধু বলবে, কিছু একটা করেছিল তাই ধরেছে। এটি হলো সবচেয়ে বড় রাষ্ট্রবিরোধিতা।
সূত্র: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, স্থানীয় পুলিশ রিপোর্ট
সিএ/এএ


