তামাকজাত পণ্যে কর বৃদ্ধির পর তরুণ ধূমপায়ীদের একটি অংশ ধূমপানের পরিমাণ কমালেও বড় অংশ আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনেনি বলে নতুন এক গবেষণায় উঠে এসেছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কর বৃদ্ধির পর ৩৭.৩৪ শতাংশ তরুণ ধূমপায়ী ধূমপান কমিয়েছে। তবে মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কর সমন্বয় না করায় এর প্রত্যাশিত সুফল মাঠপর্যায়ে পুরোপুরি প্রতিফলিত হয়নি।
বুধবার (৪ মার্চ) রাজধানীর ওয়ার্ক ফর বেটার বাংলাদেশ (ডাব্লিউবিবি) ট্রাস্টের সভাকক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানে জানানো হয়, মূল্য বৃদ্ধির পরও বাজারে একাধিক মূল্যস্তর বহাল থাকায় অনেক তরুণ ধূমপায়ী কম দামের ব্র্যান্ডে স্থানান্তরিত হয়েছেন, যা করনীতির কার্যকারিতা আংশিকভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা), বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি), পাবলিক হেলথ২৪.কম ও ডাব্লিউবিবি ট্রাস্ট যৌথভাবে এ আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ডাব্লিউবিবি ট্রাস্টের পরিচালক গাউস পিয়ারী মুক্তি। আলোচনায় অংশ নেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও নীতি বিশ্লেষক সৈয়দ মাহাবুবুল আলম তাহিন, সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের সমন্বয়ক নিখিল চন্দ্র ভদ্র, ডেভলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস অব সোসাইটির টিমলিড আমিনুল ইসলাম বকুল, বিইআরের প্রকল্প পরিচালক হামিদুল ইসলাম হিল্লোল এবং ডব্লিউবিবি ট্রাস্টের সিনিয়র প্রকল্প কর্মকর্তা সামিউল হাসান সজীবসহ সংশ্লিষ্টরা।
গবেষণায় বলা হয়, ২০০৬-০৭ অর্থবছরে নিম্ন মূল্যস্তরের সিগারেট বাজারে এলেও অন্যান্য স্তরের তুলনায় এতে করভার ছিল কম। দীর্ঘ ১৯ বছর পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মাঝামাঝি সময়ে সরকার সব মূল্যস্তরের সিগারেটের ওপর সমানভাবে ৬৭ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করে। এই পরিবর্তনের পর তরুণদের আচরণগত প্রতিক্রিয়া যাচাই করতে দেশের আটটি বিভাগীয় জেলা থেকে ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৩৯১ জন তরুণ ধূমপায়ীর ওপর গবেষণা পরিচালনা করা হয়।
ফলাফলে দেখা গেছে, কর বৃদ্ধির পর ৫৯.০৮ শতাংশ তরুণ ধূমপায়ী ধূমপানের মাত্রা অপরিবর্তিত রেখেছেন। একই সময়ে ৭৮.৭৭ শতাংশ ধূমপায়ী কম দামের ব্র্যান্ড ব্যবহার করেছেন এবং ২১.২৩ শতাংশ সরাসরি ব্র্যান্ড পরিবর্তন করেছেন। অর্থাৎ মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব এড়াতে উল্লেখযোগ্য অংশ বিকল্প সস্তা পণ্যে ঝুঁকেছেন।
আরও দেখা গেছে, ১৮.৬৭ শতাংশ ধূমপায়ী অন্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় কমিয়ে সিগারেট ক্রয় অব্যাহত রেখেছেন, যা গবেষকদের মতে উদ্বেগজনক সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রবণতা। ব্যক্তিপর্যায়ে মূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে সচেতনতা যত বেশি, ধূমপান কমানোর প্রবণতাও তত বেশি—এমন ইঙ্গিতও পাওয়া গেছে গবেষণায়। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের তরুণরা তুলনামূলকভাবে বেশি মূল্য সংবেদনশীল হওয়ায় তাদের মধ্যে ধূমপান কমানোর প্রবণতা কিছুটা বেশি দেখা গেছে।
গবেষণা প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়, তামাক নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য পেতে প্রমাণভিত্তিক ও শক্তিশালী করনীতি গ্রহণের পাশাপাশি নিয়মিত মূল্যস্ফীতি বিবেচনায় নিয়ে করভার সমন্বয় করা জরুরি। একই সঙ্গে সরকার নির্ধারিত মূল্যস্তরের বাইরে কোনো ব্র্যান্ড যাতে বাজারে প্রবেশ করতে না পারে, সে জন্য বাজার মনিটরিং জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সিএ/এএ


