বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ধর্মবিষয়ক সহযোগিতা আরও বিস্তৃত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে মন্ত্রী পর্যায়ে একটি ভার্চুয়াল দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে হজ ব্যবস্থাপনা, যাকাত প্রশাসন এবং ধর্মীয় শিক্ষা আধুনিকায়নে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) আয়োজিত এ অনলাইন বৈঠকে অংশ নেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের ধর্মবিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী সিনেটর ড. জুলকিফলি হাসান এবং বাংলাদেশের ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ। দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় এ বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বৈঠকে হজ ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে দক্ষতা বৃদ্ধি, সেবার মানোন্নয়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর কার্যক্রম জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। হজযাত্রীদের নিবন্ধন, প্রশিক্ষণ, আবাসন ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়ে ইতিবাচক মতামত দেন উভয় পক্ষ। হজ কার্যক্রম পরিচালনায় সমন্বয় ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়।
যাকাত ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো শক্তিশালীকরণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার এবং তথ্যভিত্তিক উপকারভোগী তালিকা প্রণয়নের বিষয়ে মতবিনিময় হয়। যাকাত তহবিলের কার্যকর ব্যবহার ও দারিদ্র্য বিমোচনে এর ভূমিকা আরও ফলপ্রসূ করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন দুই দেশের প্রতিনিধিরা।
ধর্মীয় শিক্ষা ব্যবস্থাকে যুগোপযোগী ও সমসাময়িক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাঠ্যক্রম উন্নয়ন, গবেষণা সহযোগিতা এবং শিক্ষক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গ্রহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। প্রযুক্তি-সমন্বিত শিক্ষা, সহনশীলতা ও সামাজিক সম্প্রীতির মূল্যবোধ জোরদারের প্রয়োজনীয়তার কথাও আলোচনায় উঠে আসে।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যৌথ প্রশিক্ষণ, কর্মশালা ও অভিজ্ঞতা বিনিময় কর্মসূচি আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। উভয় মন্ত্রী পারস্পরিক সম্মান ও সদিচ্ছার ভিত্তিতে ভবিষ্যতে ধর্মবিষয়ক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, আলোচিত উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ধর্মীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে।
সিএ/এএ


