ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে এখন পর্যন্ত ২৯২টি আসনের বেসরকারি ফলাফল প্রকাশ করা হয়েছে। ঘোষিত ফলাফলের ভিত্তিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গঠন নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আসনে জয় পেয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট।
নির্বাচনী ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঘোষিত ২৯২টি আসনের মধ্যে বিএনপি ও তাদের শরিক দলগুলো মোট ২১২টি আসনে জয় অর্জন করেছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা ৭২টি আসনে বিজয়ী হয়েছেন। এছাড়া বিভিন্ন ছোট ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মোট ৮টি আসনে জয় পেয়েছেন।
এদিকে জামায়াত ও এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোট দেশের উত্তরাঞ্চল, দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও রাজধানীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। এসব আসনে তাদের প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের পেছনে ফেলে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী নীলফামারীর চারটি আসনের সবগুলোতেই জামায়াত জোটের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। একইভাবে যশোর, বাগেরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ ও খুলনার একাধিক আসনে জোট প্রার্থীদের বিজয় নিশ্চিত হয়েছে।
রাজধানী ঢাকার চারটি আসনেও জামায়াত জোটের প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকা-৪, ঢাকা-৫, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৪, ঢাকা-১৫ ও ঢাকা-১৬ আসনে জোট প্রার্থীদের জয় এসেছে, যা এবারের নির্বাচনে রাজধানীতে তাদের শক্ত অবস্থানের ইঙ্গিত দেয়।
একনজরে জামায়াত-এনসিপিসহ ১১ দলীয় জোটের বিজয়ী আসনগুলো হলো—
নীলফামারী-১ আব্দুস সাত্তার, নীলফামারী-২ আব্দুল লতিফ, নীলফামারী-৩ ওবায়দুল্লাহ সালাফী, নীলফামারী-৪ আব্দুল মুনতাকিম, যশোর-১ আজীজুর রহমান, যশোর-২ মোসলেহউদ্দিন ফরিদ, যশোর-৪ গোলাম রছুল, বাগেরহাট-২ শেখ মনজুরুল হক, বাগেরহাট-৪ আব্দুল আলীম, কুড়িগ্রাম-৩ মাহবুবুল আলম সালেহী, সাতক্ষীরা-৩ রবিউল বাশার, ঝিনাইদহ-৪ আবু তালিব, নড়াইল-২ আতাউর রহমান, কুড়িগ্রাম-২ আতিকুর রহমান মুজাহিদ (এনসিপি), রংপুর-৩ মাহবুবুর রহমান বেলাল, রংপুর-৪ আখতার হোসেন (এনসিপির সদস্য সচিব), ফরিদপুর-১ ইলিয়াস মোল্লা, নওগাঁ-২ এনামুল হক, চুয়াডাঙ্গা-২ রুহুল আমিন, রংপুর-২ আজহারুল ইসলাম, কুষ্টিয়া-৪ আফজাল হোসেন, সাতক্ষীরা-১ ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৪ নজরুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ মোস্তাফিজুর রহমান, রংপুর-১ রায়হান সিরাজী, রংপুর-৫ গোলাম রব্বানী, খুলনা-৬ আবুল কালাম আজাদ, পটুয়াখালী-২ শফিকুল ইসলাম, চট্টগ্রাম-১৫ শাহজাহান চৌধুরী, কুমিল্লা-৪ হাসনাত আবদুল্লাহ (এনসিপি), কুমিল্লা-১১ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের, যশোর-৬ মোক্তার আলী, পিরোজপুর-১ মাসুদ সাঈদী, মেহেরপুর-১ তাজউদ্দীন খান, মেহেরপুর-২ নাজমুল হুদা, গাইবান্ধা-১ মাজেদুর রহমান, রংপুর-৬ নুরুল আমীন, পাবনা-৪ আবু তালেব মন্ডল, রাজশাহী-১ মুজিবুর রহমান, কুড়িগ্রাম-১ আনোয়ারুল ইসলাম, গাইবান্ধা-২ মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, গাইবান্ধা-৫ মো. আব্দুল ওয়ারেছ, জয়পুরহাট-১ মো. ফজলুর রহমান সাঈদ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ মো. কেরামত আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ মু. মিজানুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ মো. নূরুল ইসলাম, রাজশাহী-৪ মো. আব্দুল বারী সরদার, সিরাজগঞ্জ-৪ মো. রফিকুল ইসলাম খান, পাবনা-১ মোহাম্মদ নাজিবুর রহমান, পাবনা-৩ মুহাম্মাদ আলী আছগার, কুষ্টিয়া-২ মো. আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৩ মো. আমির হামজা, চুয়াডাঙ্গা-১ মো. মাসুদ পারভেজ, ঝিনাইদহ-২ আলী আজম মো. আবু বকর, ঝিনাইদহ-৩ মো. মতিয়ার রহমান, যশোর-৫ গাজী এনামুল হক, বাগেরহাট-১ মো. মশিউর রহমান খান, খুলনা-২ শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, শেরপুর-১ মো. রাশেদুল ইসলাম রাশেদ, ময়মনসিংহ-৬ মো. কামরুল হাসান, নেত্রকোণা-৫ মাছুম মোস্তফা, ঢাকা-৪ সৈয়দ জয়নুল আবেদীন, ঢাকা-৫ মোহাম্মদ কামাল হোসেন, ঢাকা-১২ মো. সাইফুল আলম, ঢাকা-১৪ মীর আহমাদ বিনকাসেম, ঢাকা-১৫ মো. শফিকুর রহমান, ঢাকা-১৬ মো. আব্দুল বাতেন, গাজীপুর-৪ সালাহ উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১৬ মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
সিএ/এমআর


