জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) রবিবার সকালে ৪৫ হাজার ১৯১ কোটি ২৭ লাখ টাকার ২৫টি প্রকল্প অনুমোদন করেছে। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নতুন ১৪টি প্রকল্প, সংশোধিত ৬টি প্রকল্প এবং মেয়াদ বৃদ্ধি প্রাপ্ত ৫টি প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়।
অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে সরকারের নিজস্ব অর্থায়ন ১০ হাজার ৮৮১ কোটি ৪০ লাখ টাকা, প্রকল্প ঋণ ৩২ হাজার ১৮ কোটি ৯ লাখ টাকা এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিজস্ব অর্থায়ন ২ হাজার ২৯১ কোটি ৭৮ লাখ টাকা।
সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ, অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন, খাদ্য ও ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার, স্বরাষ্ট্র ও কৃষি উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ, সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন, পানি সম্পদ ও তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার, বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমসহ অন্যান্য ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
পরিকল্পনা উপদেষ্টা অধ্যাপক ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার খুব বেশি নতুন প্রকল্প গ্রহণ করেনি। তবে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যয় ২৫ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়েছে। এর আওতায় অবশিষ্ট স্থাপনা নির্মাণ ও কমিশনিং, খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ, নিউক্লিয়ার নিরাপত্তা এবং রাশিয়ান কর্মীর আবাসন সম্প্রসারণ অন্তর্ভুক্ত।
সভায় রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক উন্নয়ন, বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী হাসপাতাল এবং পরিষ্কার বায়ু প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধি পেয়েছে চট্টগ্রামের লালখান বাজার-বিমানবন্দর এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ে ও দোহাজারী-ঘুমধুম রেলপথ প্রকল্পে।
আজকের সভায় অনুমোদিত প্রকল্পগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—
সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়: রাঙামাটি (মানিকছড়ি)-মহালছড়ি-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়ক (আর-১৬২) এবং মুন্সীগঞ্জের আঞ্চলিক ও জেলা মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্প।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়: চট্টগ্রাম শহরের লালখান বাজার থেকে শাহ আমানত বিমানবন্দর পর্যন্ত এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে (২য় সংশোধিত)।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়: শাহ আমানত বিমানবন্দরের রানওয়ে ও টেক্সিও উন্নয়ন এবং পারকিতে পর্যটন সুবিধা উন্নয়ন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়: স্যানিটেশন ও কুমিল্লার গুরুত্বপূর্ণ গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়: ফাঁড়ি/নিরাপত্তা কেন্দ্র, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের জেলা কার্যালয় নির্মাণ।
বাংলাদেশ রেলওয়ে: দোহাজারী-রামু-কক্সবাজার এবং রামু-মিয়ানমার সীমান্ত পর্যন্ত সিঙেল লাইন ডুয়েলগেজ ট্র্যাক।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়: শিক্ষিত যুবদের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়: সিলেট টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ ও ইনস্টিটিউট স্থাপন।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা: বিদ্যালয় বহির্ভূত শিশুদের বিকল্প শিক্ষা।
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ: ১,০০০-বেড বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ জেনারেল হাসপাতাল এবং স্বাস্থ্য ও পুষ্টি সেবা উন্নয়ন।
কৃষি: আশুগঞ্জ-পলাশ সবুজ প্রকল্প এবং স্মলহোল্ডার এগ্রিকালচারাল কম্পিটিটিভনেস প্রজেক্ট।
পানি সম্পদ: নদী ব্যবস্থাপনা, নদীর ভাঙন প্রতিরোধ এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ (১ম সংশোধিত)।
সভায় পরিকল্পনা উপদেষ্টা ইতোমধ্যে অনুমোদিত ৫০ কোটি টাকার কম ব্যয়ের ১০টি প্রকল্প সম্পর্কে একনেককে অবহিত করেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রকল্পগুলো হলো— সরকারি কলেজ উন্নয়ন, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস (বিইউপি) উন্নয়ন, শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর শক্তিশালীকরণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান মহাকাশ ও অবলোকন কেন্দ্রের অসমাপ্ত প্রকল্প সমাপ্তকরণ, নভোথিয়েটার খুলনা, প্রাথমিক শিক্ষার উন্নয়ন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স-এর অ্যাম্বুলেন্স সম্প্রসারণ, র্যাব সদর দপ্তর নির্মাণ, নড়াইল শহরের জাতীয় মহাসড়ক উন্নয়ন এবং সৈয়দপুর বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ। এছাড়া বাংলাদেশ মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্থায়ী ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠার নাম সংশোধন করা হয়েছে।
সিএ/এএ


