ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ এস এম সালেহ আহমেদ বলেছেন, ই-রিটার্ন বা অনলাইনে আয়কর রিটার্ন শুধুমাত্র প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, বরং এটি আধুনিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতিফলন। এই পদ্ধতি সরকারের কর প্রশাসনকে সহজ, স্বচ্ছ ও কার্যকর করেছে এবং সরকারি কর্মকর্তাদের নৈতিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে একটি শক্ত উদাহরণ স্থাপন করেছে।
রবিবার (২৫ জানুয়ারি) ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে মন্ত্রণালয়ে কর্মরত ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের জন্য আয়োজিত ‘ব্যক্তি করদাতাগণের ইলেকট্রনিক মাধ্যমে আয়কর রিটার্ন দাখিল’ শীর্ষক লার্নিং সেশনে সিনিয়র সচিব এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, স্বয়ংক্রিয় ডেটা সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণের কারণে আয়-ব্যয়ের অসামঞ্জস্য চিহ্নিত করা সহজ হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় রাজস্ব বৃদ্ধিতে সহায়ক।
এ এস এম সালেহ আহমেদ আরও বলেন, সরকারি কর্মকর্তা মানেই রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। তাদের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা শুধু আইনি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্বও। সরকারি কর্মকর্তাদের ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার উদ্যোগ প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ও নৈতিকতার একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। এতে সাধারণ জনগণের মধ্যেও কর প্রদানে আগ্রহ ও আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি উল্লেখ করেন, ই-রিটার্নের মাধ্যমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সংস্কৃতি গড়ে ওঠে, যা পুরো কর ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তনের অনুঘটক হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে দাখিলকৃত তথ্য সংরক্ষিত থাকে এবং প্রয়োজনে যাচাই করা সম্ভব, যা সবচেয়ে বড় সুফল।
লার্নিং সেশনে প্রশিক্ষক হিসেবে ছিলেন আয়কর গোয়েন্দা ও তদন্ত ইউনিটের সহকারী কমিশনার এ কে এম মনিরুজ্জামান। সভায় ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান (সচিব) এ জে এম সালাহউদ্দিন নাগরীসহ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সকল আইন ও অধ্যাদেশ সংকলন বিষয়ক সভাও অনুষ্ঠিত হয়।
সিএ/এএ


