অন্তর্বতীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, নির্বাচনের পরে তিনি দেশেই থাকবেন। তিনি বলেন, “হাসিনার মতো আমি এমন কাজ করিনি যে আমাকে সেফ এক্সিট নিতে হবে। আমি দেশেরই সন্তান, এ দেশেই থাকবো। তখন সাংবাদিকতা করবো নাকি চাকরি করবো তা পরে দেখবেন। আল্লাহ যেখানে রিজিক রেখেছেন সেখানেই চাকরি করব।”
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকালে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গড়পাড়া ইমামবাড়ি মাজার পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, দেশে ৬০টির বেশি মাজারে হামলা হয়েছে এবং প্রতিটি ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও ব্যবস্থা নিয়েছে। তিনি বাউল শিল্পী আবুল সরকারের সমর্থকদের ওপর হামলার বিষয়টি দুঃখজনক উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ একটি সম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির দেশ। আমরা আশা করি সবাই এটি বজায় রাখবেন। আমাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকবেই, তবে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। তাহলে আগামীতে এই ধরনের ঘটনা আর ঘটবে না।”
তিনি আরও বলেন, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের বাউল সমাজের ভোটাররাও ভোট দিতে কেন্দ্রে যাবেন। “কোনো আশঙ্কা থাকার প্রয়োজন নেই। যিনি পীরভক্ত, যিনি পীরভক্ত নন, হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব ধর্মের লোক কিংবা যারা কোনো ধর্মই বিশ্বাস করেন না, তিনিও ভোট দিতে যাবেন। সবাই মিলে আমরা ভোট দেব।”
গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়ে প্রেসসচিব বলেন, তথ্য অধিকার আইনের (আরটিআই) কিছু বিষয় আরও সহজ করা হয়েছে। সূচিপত্র কিভাবে হবে, কিভাবে রিপোর্ট করবেন, এবং আপনার তথ্যের উপরে অধিকার কিভাবে প্রতিষ্ঠিত হবে—এসব বিষয়ে একটি অধ্যাদেশ পাস করা হয়েছে। তিনি বলেন, “এই সরকার ১৮ মাস ধরে দেশের দায়িত্বে আছে। সবকিছু একসাথে সম্ভব নয়, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নিয়ে সরকার কাজ করছে।”
গণভোটে হ্যাঁ ভোটের ব্যাপারে তিনি বলেন, “সব রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ৯ মাস জাতীয় সংস্কার কমিশনের আলোচনার পরই এই গণভোটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সব দলই হ্যাঁ ভোটের পক্ষে। আমাদের বার্তা পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে যাতে সবাই বুঝতে পারেন, কেন হ্যাঁ ভোট দেওয়া প্রয়োজন—দেশে যেন আর কোনো স্বৈরাচার ফিরে না আসে, অপশাসন না ফিরে আসে, এবং আপনার ব্যাংকের টাকা লুটপাটের শিকার না হয়।”
এ সময় গড়পাড়া ইমাম বাড়ির খাদেম, ক্রীড়া সাংবাদিক আরিফুর রহমান বাবু, ইমাম বাড়ির ব্যক্তিবর্গ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সিএ/এএ


