আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড আয়োজন করে। এর ধারাবাহিকতায় এ বছর তৃতীয়বারের মতো দেশব্যাপী এই অলিম্পিয়াড অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ভাষাবিজ্ঞানের প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ানো এবং মাতৃভাষা চর্চাকে উৎসাহিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড দুটি ক্যাটাগরিতে অনুষ্ঠিত হয়। ক-ক্যাটাগরিতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এবং খ-ক্যাটাগরিতে দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে। শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের নির্ধারিত সেবাবক্সের মাধ্যমে অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করে অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়।
এ বছর লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াড ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ ও কুমিল্লাসহ মোট ১০টি ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রতিটি অঞ্চল থেকে ক-ক্যাটাগরি ও খ-ক্যাটাগরি মিলিয়ে মোট ২০০ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে। চূড়ান্ত পর্ব ফেব্রুয়ারি-২০২৬ এ সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত হবে।
চূড়ান্ত পর্বে দুই ক্যাটাগরি থেকে মোট ছয়জন শিক্ষার্থী একুশের অনুষ্ঠানমালায় মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার কাছ থেকে পুরস্কার গ্রহণ করবে। এছাড়া ক ও খ ক্যাটাগরি থেকে প্রথম স্থান অধিকারী দুইজন শিক্ষার্থী এ বছর অনুষ্ঠিতব্য আন্তর্জাতিক লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে অংশগ্রহণের সুযোগ পাবে।
এই কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) কুমিল্লার গৌরীপুরে আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের কুমিল্লা অঞ্চল পর্বের বর্ণাঢ্য আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে কুমিল্লা অঞ্চল পর্বের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক, মাতৃভাষা গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আনন্দ মাল্টিমিডিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজের পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম সরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের অতিরিক্ত পরিচালক (উপসচিব) আবুল কালাম। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডের সদস্য-সচিব ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের উপপরিচালক (প্রশাসন) প্রফেসর ড. খিলফাত জাহান যুবাইরাহ্।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালক প্রফেসর সোমেশ কর চৌধুরী এবং কুমিল্লা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম।
এ আয়োজনের কুমিল্লা অঞ্চল পর্বে ক-ক্যাটাগরিতে ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির ২৪৩ জন এবং খ-ক্যাটাগরিতে দশম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির ৫৯ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। সব মিলিয়ে মোট ৩০২ জন শিক্ষার্থী অলিম্পিয়াডে অংশ নেয়। সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত এক ঘণ্টাব্যাপী নির্ধারিত পরীক্ষায় শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করে।
মূল্যায়ন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ফলাফল ঘোষণা পর্বে ভাষাবিজ্ঞানী ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘মাতৃভাষা চর্চার মধ্য দিয়েই একটি জনগোষ্ঠী তার মনন, মেধা ও চিন্তা প্রকাশ করে। পৃথিবীতে অনেক মাতৃভাষা বিপন্ন অবস্থায় রয়েছে এসব ভাষা সঠিকভাবে চর্চা না করলে তা মৃত্যুমুখে পতিত হবে। মাতৃভাষা হারিয়ে যাওয়া মানে ওই ভাষার কৃষ্টি, সংস্কৃতি ও সভ্যতা বিলীন হয়ে যাওয়া। কাজেই বিপন্ন ভাষা চর্চা, অনুশীলন, পুনরুজ্জীবন, নথিবদ্ধকরণ আবশ্যক। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট এ কাজটি করে যাচ্ছে।’
সংক্ষিপ্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পর অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি বিষয়ে প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেয়। আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর প্রদান করেন এবং ফলাফল ঘোষণা শেষে সভাপতি অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।
সিএ/এএ


