আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা দেশে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করছেন রিটার্নিং অফিসাররা। যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় অনেক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ায় প্রার্থিতা ফিরে পেতে নির্বাচন কমিশনে আপিলের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে আপিল করতে হলে নির্ধারিত সাতটি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) এসব নির্দেশনা প্রার্থীদের মাঝে প্রচারের জন্য রিটার্নিং অফিসারদের কাছে চিঠি পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এতে আপিল দাখিলের পদ্ধতি, সময়সূচি এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, আপিল আবেদন নির্বাচন কমিশনকে সম্বোধন করে স্মারকলিপি আকারে নির্ধারিত ফরমেটে দাখিল করতে হবে। আপিলের সঙ্গে মনোনয়নপত্র গ্রহণ বা বাতিলের তারিখ, আপিলের কারণ উল্লেখ করে বিবৃতি এবং সংশ্লিষ্ট আদেশের সত্যায়িত কপি জমা দিতে হবে। আপিল আবেদন একটির মূল কপিসহ মোট সাতটি কপি দাখিল করতে হবে।
আপিল আবেদন জমা দিতে হবে নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত আপিল আবেদন গ্রহণ কেন্দ্রে, যেখানে নিজ নিজ অঞ্চলের জন্য নির্ধারিত বুথে আবেদন গ্রহণ করা হবে। আপিল দাখিলের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে ৯ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত।
আপিল কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত বা রায়ের কপি পেতে হলে নির্ধারিত ফরমে আলাদা আবেদন করতে হবে। এই ফরমের নমুনা নির্বাচন কমিশনের আপিল দাখিল সংক্রান্ত কেন্দ্রীয় বুথ থেকে সংগ্রহ করা যাবে। আপিল দাখিলকারী অথবা তাঁর পক্ষে মনোনীত ব্যক্তি রায়ের কপি সংগ্রহ করতে পারবেন।
আপিল দাখিলের জন্য রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে মোট ১০টি বুথ নির্ধারণ করা হয়েছে। খুলনা অঞ্চল, রাজশাহী অঞ্চল, রংপুর অঞ্চল, চট্টগ্রাম অঞ্চল, কুমিল্লা অঞ্চল, সিলেট অঞ্চল, ঢাকা অঞ্চল, ময়মনসিংহ অঞ্চল, বরিশাল অঞ্চল ও ফরিদপুর অঞ্চলের জেলা অনুযায়ী এসব বুথে আপিল গ্রহণ করা হবে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি, জাতীয় পার্টি-জাপা, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ৫১টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মোট ২ হাজার ৯১টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেছে।
তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র বাছাই চলবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল দায়ের করা যাবে ৫ জানুয়ারি থেকে ৯ জানুয়ারি পর্যন্ত। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ জানুয়ারি থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২০ জানুয়ারি। চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হবে ২২ জানুয়ারি এবং প্রচার চালানো যাবে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে সাতটা পর্যন্ত। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।
সিএ/এএ


