নতুন সরকারের ঘোষিত তিন অগ্রাধিকারের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা অন্যতম। তবে অবৈধ অস্ত্র, জামিনে মুক্ত পেশাদার সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি, মাদক ও উগ্রবাদী কর্মকাণ্ড—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ঈদকে সামনে রেখে মহাসড়ক নিরাপদ রাখা ও ছিনতাই-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণও গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা বলছেন, আইনশৃঙ্খলা শুধু অপরাধ দমন নয়, এটি প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা ও জনআস্থার বিষয়। দ্রুত অগ্রগতি জরুরি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় থেকে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তায় সারা দেশে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়। তারা এখনো মাঠে আছেন। পরিস্থিতি স্থিতিশীল হলে ধাপে ধাপে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে, যাতে মূল দায়িত্ব পুলিশের ওপর পড়ে।
পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রদবদল ও পুনর্গঠন প্রক্রিয়া চলমান। পুলিশ পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে পারেনি। পূর্বের মবসহিংসতা এবং ছিনতাই-ডাকাতি নিয়ন্ত্রণে সতর্ক থাকতে হবে। সদ্য বিদায়ী আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, সঠিক পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সম্ভব।
পেশাদার সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রও বড় ঝুঁকি। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের পর ৪৩ জন পেশাদার সন্ত্রাসী জামিনে মুক্ত হন। এর মধ্যে অনেক এখনও ধরা পড়েননি। একই সঙ্গে, উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে অভিযুক্ত বন্দীদের মধ্যে ৭০ জন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক। এসব সন্ত্রাসী ও তাঁদের অনুসারীরা আইনশৃঙ্খলার জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
চাঁদাবাজি ও হামলার খবরও নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এসেছে। ঢাকার আদাবরে একটি এমব্রয়ডারি কারখানায় হামলা, পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে ফল ব্যবসায়ীকে পিটিয়ে আহত করা, চট্টগ্রামে কোটি টাকার চাঁদার দাবি—এসব ঘটনায় প্রশাসন লক্ষ্য রেখেছে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন বলেন, এসব অপরাধ মানুষের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। তাই এগুলোকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আস্থার সংকটও সমাধান করতে হবে। অনেক কর্মকর্তা ঝুঁকি নিয়ে কাজ করতে চান না। অতীতের গণ-অভ্যুত্থান ও সহিংসতায় অনেকেই মামলার শিকার হয়েছেন। পুলিশের মধ্যে মনোবল বৃদ্ধি, পদোন্নতি ও স্বচ্ছ নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে হবে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন সরকারের তিন তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত: পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠন, সন্ত্রাসী ও অবৈধ অস্ত্রের বিরুদ্ধে কার্যকর অভিযান, এবং চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতিমধ্যেই অভিযানের প্রস্তুতি নিয়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের শিক্ষক তৌহিদুল হক বলেন, রাজনৈতিক শক্তি ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়াতে না পারে তা নিশ্চিত করতে হবে। মবসহিংসতা বন্ধ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ ফিরিয়ে আনাই সরকারের মূল কাজ।
সিএ/এমই


