রাজধানীর নয়াপল্টন, গুলিস্তান ও কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে এক যুবকের কাটা দুটি হাত ও দুটি পা উদ্ধার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটার দিকে একটি পা, শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে দুটি হাত এবং দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে আরও একটি পা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শাহীন আলম (২১) নামের একজনকে আটক করা হয়েছে।
আঙুলের ছাপ পরীক্ষা করে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ (৩০), বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর। তিনি গণস্বাস্থ্য হোমিও নামের একটি প্রতিষ্ঠানের বিপণন কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করতেন।
পুলিশ জানায়, মোহাম্মদ ওবায়দুল্লাহ ও শাহীন আলম মতিঝিলের কবি জসীমউদ্দীন রোডের একটি ফ্ল্যাটে দুই কক্ষে থাকতেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকে ওবায়দুল্লাহকে শ্বাসরোধে হত্যার কথা শাহীন আলম স্বীকার করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ওবায়দুল্লাহ তাঁকে নানাভাবে অপমান করতেন এবং পরিবার নিয়েও কটূক্তি করতেন।
পুলিশ জানায়, শুক্রবার রাতে বাসায় হত্যার পর মরদেহ গুমের উদ্দেশ্যে চাপাতি দিয়ে টুকরা করা হয়। প্রতিটি অঙ্গ আলাদা কালো পলিথিনে মোড়া হয়। এরপর শাহীন আলম নিজের সাইকেলে লাশের টুকরাগুলো বহন করে নয়াপল্টন, গুলিস্তান ও কমলাপুরে ফেলে দেন। প্রথমে রাত ১২টা ১০ মিনিটে নয়াপল্টনে স্কাউট ভবনের সামনের রাস্তায় একটি পা ফেলা হয়। পরে গুলিস্তান স্টেডিয়ামের ১৩ নম্বর গেটে দুটি হাত ফেলা হয়। দুপুরে কমলাপুর রেলস্টেশনে আরও একটি পা পাওয়া যায়।
মতিঝিল জোনের সহকারী কমিশনার হুসাইন মুহাম্মদ ফারাবী জানান, প্রথমে নয়াপল্টনে একটি পা উদ্ধার হয়, এরপর অন্যান্য অঙ্গের খোঁজ চালানো হয়। শনিবার সকালে গুলিস্তান স্টেডিয়ামে দুটি হাত এবং বেলা আড়াইটায় কমলাপুর স্টেশনে আরও একটি পা পাওয়া যায়। আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।
পুলিশের একটি কর্মকর্তা জানান, নয়াপল্টনে পা ফেলার দৃশ্য সিসিটিভি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত শাহীন আলমকে শনাক্ত করা হয়। পরে হীরাঝিল হোটেল থেকে তাকে আটক করা হয়। সাইকেল ও হত্যায় ব্যবহৃত চাপাতি জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার বিষয়টি শাহীন আলম স্বীকার করেছেন।
সিএ/এমই


