রাজধানীর কদমতলী খানকাহ শরিফ এলাকায় মুঠোফোন চুরি নিয়ে বিরোধের জের ধরে সাত বছরের শিশু রিফাতকে হত্যা করা হয়েছে। পুলিশ শনিবার ( ৫ ডিসেম্বর) জানিয়েছে, হত্যাকারী ছিলেন প্রতিবেশী মায়া বেগম ওরফে লাবণী। শিশুর মরদেহ প্লাস্টিকের ড্রামে ভরে রাতে পাহারা দেওয়া হয়। পরদিন বুধবার সকালে ড্রামটি অটোরিকশায় নিয়ে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়া এলাকায় ময়লার স্তূপে ফেলে দেওয়া হয়।
কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ আশরাফুজ্জামান জানান, মঙ্গলবার শিশুর মা মুন্নি আক্তার থানায় এসে জানান, তাঁর ছেলে রিফাত খেলতে বেরিয়ে আর ফিরে আসেনি। এরপর কদমতলী থানায় নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডি করা হয়। বুধবার রাত আটটার দিকে গেন্ডারিয়া এলাকায় একটি ড্রামে শিশুর লাশ পাওয়া গেলে পুলিশ তা উদ্ধার করে। মুন্নি আক্তার লাশটি শনাক্ত করেন।
পুলিশ জানায়, তদন্তে শিশুর বোন ও স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, ড্রামে পাওয়া কামিজটি মায়া বেগমের মেয়ের। পরে মায়া বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি হত্যার সঙ্গে নিজের সংশ্লিষ্টতা স্বীকার করেন।
ওসি আশরাফুজ্জামান আরও জানান, হত্যার কারণ ছিল দুই পরিবারের মধ্যে চলমান বিরোধ। মায়া বেগম দু–তিন মাস আগে তাঁর মুঠোফোন চুরি হলে সে ঘটনার জন্য রিফাতের বোনকে সন্দেহ করেন। মঙ্গলবার রাস্তায় রিফাতকে একা পেয়ে তিনি খাবারের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে নেন। মুঠোফোন চুরির বিষয়ে সন্তুষ্ট না হয়ে রেগে গিয়ে শিশুকে থাপ্পড় দেন। শিশুর মাথা খাটের সঙ্গে ধাক্কা লাগায় মৃত্যু হয়। পরে মায়া বেগম প্লাস্টিকের ড্রামে লাশ রাখেন।
পুলিশ জানায়, হত্যার স্বীকারোক্তির পর মায়া বেগমকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি স্থানীয় একটি স্কুলে দপ্তরি হিসেবে কাজ করেন। তার স্বামী একটি রিকশার গ্যারেজে কর্মরত। নিহত শিশুর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন পেশায় অটোরিকশাচালক।
সিএ/এমই


