লক্ষ্মীপুর জেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় হামের লক্ষণ নিয়ে আরও ১৯ শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। শনিবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা থেকে রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ৯টা পর্যন্ত জেলা সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসব শিশু ভর্তি হয়। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৩০ শিশু।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন ভর্তি হওয়া ১৯ শিশুর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ১৪ জন, রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৪ জন এবং রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১ জন ভর্তি হয়েছে। জেলার হাসপাতালগুলোর মধ্যে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালেই সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি রয়েছে। নতুন রোগীসহ সেখানে হামের লক্ষণ নিয়ে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২১ জনে। এছাড়া রামগতি হাসপাতালে ৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন ভর্তি হওয়া শিশুদের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ড বা বিশেষ কর্নারে রাখা হয়েছে। গত এক মাসে জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৫৮ শিশু হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে একজন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২৭ জন।
চিকিৎসকেরা জানান, জেলায় হামের লক্ষণযুক্ত রোগীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া ১৯ শিশুর মধ্যে ১৪ জনই এই উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া রামগতি উপজেলায় ৪ জন এবং রায়পুরে ১ জন শনাক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সদর উপজেলাকে সংক্রমণের কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলায় মোট ৫৮ জন সন্দেহভাজন রোগীর মধ্যে ৩২ জনই লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার বাসিন্দা। এছাড়া কমলনগর ও রামগতিতে ৭ জন করে, রামগঞ্জে ৬ জন, রায়পুরে ৪ জন এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ২ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি এক শিশুর মা রুবিনা আক্তার বলেন, ‘দুই-তিন দিন ধরে আমার বাচ্চার জ্বর ছিল। পরে শরীরে লালচে দানা উঠতে শুরু করে। প্রথমে সাধারণ জ্বর মনে করেছিলাম, কিন্তু অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখন ডাক্তাররা বলছেন, হামের লক্ষণ। খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
লক্ষ্মীপুরের সিভিল সার্জন মোহাম্মদ আবু হাসান শাহীন বলেন, জেলায় হামের লক্ষণ নিয়ে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বাড়লেও পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। আক্রান্ত শিশুদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং অধিকাংশই সুস্থ হয়ে উঠছে।
তিনি আরও জানান, যেসব শিশু নিয়মিত টিকার আওতায় আসেনি, তাদের মধ্যেই সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি দেখা যাচ্ছে। তাই অভিভাবকদের শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সংক্রমণ প্রতিরোধে জেলার বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
সিএ/এমই


